নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগড়: গভীর রাত। জাতীয় সড়কের ধারে লাইন হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক যাত্রীবাহী বাস। আচমকাই খড়্গপুরের দিক থেকে ছুটে আসা একটি লরির সজোরে ধাক্কা! মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল গোটা পরিস্থিতি। পর পর সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে গেল একাধিক গাড়ি। প্রাণ হারালেন সরকারি বাসের এক কন্ডাক্টর। আহত আরও আটজন। বুধবার গভীর রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) মধ্যরাতে নারায়ণগড়ের ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি লাইন হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল একাধিক যাত্রীবাহী বাস। সেই সময় খড়্গপুরের দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির লরি আচমকাই দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলিতে সজোরে ধাক্কা মারে। এরপর একটি কন্টেনারের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয় লরিটির।
পরপর ধাক্কায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তিনটি বাস-সহ মোট পাঁচটি গাড়ি। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ঘাটাল থেকে ওড়িশাগামী একটি বাসের সামনের অংশ কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হয় দীঘা থেকে দুর্গাপুরগামী একটি সরকারি বাসের কন্ডাক্টরের। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। আহত হন আরও আটজন। আচমকা এই দুর্ঘটনায় জাতীয় সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নারায়ণগড় থানার পুলিশ এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। আহতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলির কারণে তৈরি হওয়া যানজট কাটাতে শুরু হয় তৎপরতা। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই গভীর রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান নারায়ণগড় বিধানসভার বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের দ্রুত উদ্ধার এবং হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন তিনি। দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেন।
বেপরোয়া গতি, নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি? দুর্ঘটনার কারণ ঘিরে প্রশ্ন। এদিকে এই ঘটনায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরির খালাসিকে আটক করেছে নারায়ণগড় থানার পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, নাকি দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক যাত্রীবাহী বাসে এ ভাবে লরির পর পর ধাক্কা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে পথনিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষ করে গভীর রাতে ভারী যানবাহনের গতিবিধি এবং জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়ানো গাড়িগুলির নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি রাত, পাঁচটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি, আটজন আহত আর একটি প্রাণের অকাল অবসান। নারায়ণগড়ের ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, মুহূর্তের দুর্ঘটনা কী ভাবে কেড়ে নিতে পারে একটি জীবন।











