প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

৩৯ লক্ষ টাকার বাজেটে জলচকে অযোধ্যার রামমন্দির! চোখধাঁধানো মণ্ডপ দেখতে দিনরাত দর্শনার্থীদের ঢল

Published on: October 19, 2026
---Advertisement---

পিংলা: অযোধ্যার রামমন্দির দেখতে আর পাড়ি দিতে হবে না উত্তরপ্রদেশে! এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার জলচকেই ফুটে উঠেছে সেই মন্দিরের আদলে তৈরি চোখধাঁধানো দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা বাজেটে নির্মিত এই মণ্ডপ ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় জমাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরই নয়, হাওড়া-সহ দূরদূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন জলচকের এই অভিনব শিল্পকর্ম দেখতে। এবছর ৬৮তম বর্ষে পদার্পণ করেছে পিংলা ব্লকের জলচক দুর্গা উৎসব কমিটির পুজো। প্রতি বছরের মতো এ বারও মণ্ডপসজ্জায় চমক দিয়েছে পুজো কমিটি। গত বছর তাদের থিম ছিল কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি। আর এ বছর সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরের স্থাপত্যশৈলী।

তবে শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করাই নয়, এই থিম নির্বাচনের নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ ভাবনাও। পুজো কমিটির সদস্যদের কথায়, গ্রামবাংলার বহু মানুষের পক্ষেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মন্দির, রাজপ্রাসাদ কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপত্য ঘুরে দেখা সম্ভব হয় না। সেই কারণেই প্রতি বছর কোনও না কোনও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যকে মণ্ডপের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন তাঁরা। কমিটির সদস্যরা জানান, তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত করানো। আধুনিকতার ভিড়ে ইতিহাসের বহু নিদর্শন সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ। তাঁদের মতে, দুর্গাপুজো শুধু উৎসব কিংবা আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় ঘটানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

এ দিকে, জলচকের রামমন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ দেখতে দর্শনার্থীদের উৎসাহও চোখে পড়ার মতো। কেউ এসেছেন হাওড়া থেকে, কেউ আবার পাশের ডেবরা এলাকা থেকে। মণ্ডপের স্থাপত্যশৈলী দেখে খুশি দর্শনার্থীরা। অনেকেই মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার মোবাইলবন্দি করছেন গোটা মণ্ডপের সৌন্দর্য। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামতেই বদলে যাচ্ছে জলচকের চেনা ছবি। রাত যত বাড়ছে, ততই মণ্ডপমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। দর্শনার্থীদের আনাগোনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।

ভিড় সামলাতে তৎপর পিংলা থানার পুলিশও। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর যাতায়াতের কারণে যানজট এড়াতে কড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিনরাত রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন পুলিশকর্মী থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিকেরা। দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে। সব মিলিয়ে, ৩৯ লক্ষ টাকার বাজেটে অযোধ্যার রামমন্দিরের আদলে তৈরি এই পুজোমণ্ডপ এখন পিংলার অন্যতম আকর্ষণ। এক দিকে স্থাপত্যের সৌন্দর্য, অন্য দিকে ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস দুইয়ের মেলবন্ধনে এ বছরের দুর্গোৎসবে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে জলচক দুর্গা উৎসব কমিটি। আর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় যেন সেই উদ্যোগের সাফল্যেরই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now