নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: কোথাও নীল আকাশের নীচে দুলছে সাদা কাশফুল, কোথাও আবার প্রকৃতির রুদ্ররূপ! কারও কল্পনায় শরতের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, কারও রং-তুলিতে ফুটে উঠছে নেপালের ভয়াবহ বন্যার ছবি। দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই এক টুকরো কাগজ আর রং-পেনসিল নিয়ে নিজেদের ভাবনার জগৎ মেলে ধরল খুদে পড়ুয়ারা। মহাসপ্তমীর সকালেই এমন এক অন্যরকম উৎসবের সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের খাজুরী বালিচক।
এ বছর ৭৬তম বর্ষে পদার্পণ করেছে খাজুরী বালিচক সার্বজনীন দুর্গোৎসব। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়ের পুজোর ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এ বার ছোটদের শিল্পপ্রতিভা বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুজো কমিটি। সপ্তমীর দিন সকাল ৭টা থেকেই আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার। তাতে অংশ নেয় হাটপাড়া-সহ দশগ্রাম এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।
তবে এ প্রতিযোগিতা নিছক ছবি আঁকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ছোটদের কল্পনাশক্তি, প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার ভাবনাও উঠে এসেছে বিষয় নির্বাচনে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য রাখা হয়েছিল নিজের পছন্দমতো ছবি আঁকার সুযোগ। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রতিযোগীদের বিষয় ছিল ‘শরতের শোভা’। অন্যদিকে, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয় একেবারে ভিন্ন বিষয় ‘নেপালের বিধ্বংসী বন্যা’।
একদিকে শরতের প্রকৃতি, অন্য দিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা। একই প্রতিযোগিতায় এমন দুই বিপরীত বিষয়ের সংযোজন ছিল বিশেষ আকর্ষণ। ছোটদের কাছে ছবি আঁকা যেমন আনন্দের, তেমনই বড়দের জন্য নির্ধারিত বিষয়টি তাদের ভাবনাচিন্তার পরিসর বাড়ানোরও সুযোগ করে দেয়। দুর্গাপুজো মানেই শুধু আলোকসজ্জা, প্রতিমা দর্শন কিংবা মণ্ডপের জাঁকজমক নয়। উৎসবের মধ্য দিয়েও যে শিশুদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দেওয়া যায়, তারই নজির তুলে ধরল খাজুরী বালিচক সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।
৭৬ বছরের পুজোর ঐতিহ্যে তাই সপ্তমীর সকাল হয়ে উঠল অন্য রকম। যেখানে প্রতিযোগিতার চেয়েও বড় হয়ে উঠল শিশুদের কল্পনা, শিল্পচর্চা এবং নিজের ভাবনাকে রং-তুলিতে প্রকাশ করার সুযোগ। ঢাকের তালে পুজোর আনন্দ যখন চারদিকে, তখন খাজুরী বালিচকে খুদেদের হাতে রং-তুলিই যেন হয়ে উঠল উৎসবের আর এক ভাষা।













