প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

রং-তুলিতে দেবীর আবাহন, নিজের শিল্পেই পুজোর আনন্দ খুঁজছে সবংয়ের তরুণ

Published on: October 17, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: চার দিকে পুজোর উন্মাদনা। কোথাও থিমের চমক, কোথাও সাবেকিয়ানার টান। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। আর সেই সময়ে বাড়ির এক কোণে বসে তুলির টানে নিজের দুর্গা গড়তে ব্যস্ত শ্যামসুন্দর দাস অধিকারী। ইচ্ছে, নিজের হাতে আঁকা সেই ছবিতেই মহাষ্টমীর পুজো করবেন। তাই আপাতত তাঁর কাছে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার চেয়েও জরুরি, অসমাপ্ত সৃষ্টিকে পূর্ণতা দেওয়া।

পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের তেমাথানির বিবেকনগরের বাসিন্দা শ্যামসুন্দর এখন কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। পুজোর ছুটি পেয়ে পঞ্চমীর দিন বাড়ি ফিরেছেন। তার পর থেকেই সেঁজুতি’অঙ্গনে শুরু হয়েছে তাঁর শিল্পসাধনা। সামনে রং, তুলি আর ক্যানভাস। ভাবনায় সাবেকি একচালা দুর্গা। পটচিত্রের আদলে দেবী দুর্গার ধ্যানমন্ত্রকে সামনে রেখে সপরিবারে মহামায়ার রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত তিনি।

শ্যামসুন্দরের শিল্পপ্রতিভার পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। করোনা-পর্বে যখন পুজোর আয়োজন নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা, তখন কাগজ দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে সকলকে চমকে দিয়েছিল সে। সেই সৃষ্টির স্মৃতি আজও বাড়ির দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে অভিজ্ঞতা। এ বার তাই নতুন ভাবনায়, নতুন আঙ্গিকে দেবীকে আপন মনের মতো করে সাজিয়ে তুলতে চায় সে।

চার দিকে যখন থিমের সঙ্গে সাবেকি প্রতিমার তুল্যমূল্য বিচার চলছে, তখন শ্যামসুন্দরের মন পড়ে রয়েছে নিজের ছবির শেষ তুলির টানে। ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা উঠলে তার সোজাসাপ্টা উত্তর, নবমী-দশমী তো রয়েছেই! আগে আঁকা শেষ হোক, তার পর বেরিয়ে পড়বে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে।

এই শিল্পসাধনার পিছনে রয়েছে পরিবারের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা। শ্যামসুন্দরের মেজো মামা আকাশ জানা কীর্তনশিল্পী। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরিতেও তাঁর দক্ষতা রয়েছে। মেজো মামিমা অঞ্জলী জানা পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। ছোট থেকেই তাঁর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক ভাবধারার পাঠ পেয়েছে শ্যামসুন্দর। শিল্পচর্চার সঙ্গে সেই আধ্যাত্মিক অনুভূতির মেলবন্ধনই তার সৃষ্টিকে দিয়েছে অন্য মাত্রা।

শুধু ছবি আঁকাই নয়, নানা ধরনের শিল্পকলার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে শ্যামসুন্দরের। ভবিষ্যতে মানুষ গড়ার কারিগর হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাই চলছে সৃষ্টির সাধনা। আপাতত তার দিন-রাত কাটছে মহামায়ার রূপ ফুটিয়ে তোলার কাজে।

পুজো মানে কারও কাছে আলোর রোশনাই, কারও কাছে প্যান্ডেলের বৈচিত্র। শ্যামসুন্দরের কাছে পুজোর আনন্দ আরও একটু আলাদা। নিজের ভাবনা, নিষ্ঠা আর ভক্তিকে রং-তুলির মাধ্যমে দেবীর রূপে ফুটিয়ে তোলাই তার লক্ষ্য। সেই সৃষ্টি সম্পূর্ণ হলেই হয়তো শুরু হবে তার ঠাকুর দেখা। তার আগে একচালার ছবিতে প্রাণের স্পর্শ দিতে মগ্ন এই তরুণ শিল্পী।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now