নিজস্ব সংবাদদাতা: যন্ত্রের শব্দের সঙ্গে মিশে গেল মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর ঢাকের তালে উৎসবের আবহ। শিল্প, কারিগরি ও কর্মের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনাকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই দেখা গেল উৎসবের ছবি। কারখানা, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, পরিবহণ সংস্থা থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান সেজে উঠল ফুল, আলো আর রঙিন পতাকায়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও নতুন করে সাজানো হয়েছে মেশিন, কোথাও আবার পুজোর আগে পরিষ্কার করে ফুল-মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে বাস, ট্রাক, টোটো, অটো, মোটরবাইক-সহ নানা যানবাহন। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনামুক্ত পরিবেশ, ব্যবসায় উন্নতি এবং সবার মঙ্গল কামনায় অঞ্জলি দেন শ্রমিক, কারিগর, চালক ও ব্যবসায়ীরা।
বিশ্বকর্মা পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো। আকাশে রঙিন ঘুড়ির লড়াই ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে যুবকদের মধ্যেও ছিল আলাদা উন্মাদনা। কোথাও আবার পুজো উপলক্ষে প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভোজের আয়োজন করা হয়।
সারা বছর যে হাত যন্ত্র চালায়, লোহা কাটে, মেশিন সচল রাখে কিংবা রাস্তায় যানবাহনের স্টিয়ারিং ধরে জীবিকার চাকা ঘোরায় এই একটি দিনে সেই কর্মজীবী মানুষগুলির কাছেও বিশ্বকর্মা পুজো হয়ে ওঠে বিশেষ আনন্দের দিন। কর্মের মধ্যেই যেন দেবতার আরাধনা এই বার্তাই উঠে আসে উৎসবের প্রতিটি আয়োজন থেকে।
প্রযুক্তির যুগে যন্ত্রের ধরন বদলেছে, বদলেছে কাজের পরিধিও। কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোকে ঘিরে শ্রম, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে সম্মান জানানোর ঐতিহ্য আজও একই রকম অটুট। পুজোর মণ্ডপে তাই একটাই প্রার্থনা “কর্মে থাকুক সাফল্য, যন্ত্রে না আসুক বিপদ, সকলের জীবনে আসুক সমৃদ্ধি।”













