কলকাতা: বঙ্গ বিজেপির অন্দরে ফের বাড়তে চলেছে সাংগঠনিক তৎপরতা। আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দু’দিন ধরে রাজ্যে কার্যত বসতে চলেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের জমজমাট আসর। ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর সঙ্গে থাকার কথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) বি এল সন্তোষের। আর তার পরদিন, ১৬ সেপ্টেম্বর রাজ্যে আসার কথা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে পারেন তিনি।
বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এই প্রথম বাংলায় সাংগঠনিক সফরে আসছেন নীতিন নবীন। ফলে তাঁর এই সফরকে নিছক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। দু’দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। রাজ্য সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি, নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, আসন্ন উপনির্বাচন ও পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও তাঁর বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য হতে পারে।
নীতিন নবীনের সঙ্গে বি এল সন্তোষের উপস্থিতি এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় সন্তোষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাজ্য সংগঠনের শক্তি-দুর্বলতা থেকে শুরু করে নিচুতলার সংগঠন কতটা প্রস্তুত সব দিক নিয়েই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সম্ভাব্য বঙ্গ সফর ঘিরে নতুন করে চড়েছে রাজনৈতিক পারদ। তাঁর সঙ্গে রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকের কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। নীতিন নবীন, বি এল সন্তোষ এবং রাজনাথ সিং পরপর কেন্দ্রীয় স্তরের তিন হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। সদ্য রাজ্য বিজেপির পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণার পরেই নীতিন নবীনের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর এই দু’দিন বঙ্গ বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের টানা বৈঠকে সংগঠনের কোথায় জোর দেওয়া হবে, নিচুতলার কর্মীদের জন্য কী বার্তা আসবে এবং আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য কী রণকৌশল ঠিক হবে। এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।












