নিজস্ব সংবাদদাতা: পুলিশের নাম শুনলেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে থানা, টহলদারি কিংবা কোনও ঘটনার তদন্ত। কিন্তু কোনও অপরাধ যখন সাধারণ তদন্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় নেটওয়ার্ক, একাধিক জেলা বা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে, কিংবা তার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ, বেআইনি অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকচক্রের মতো গুরুতর বিষয় জড়িয়ে থাকে। তখন সামনে আসে Special Task Force বা STF। STF কোনও আলাদা সামরিক বাহিনী নয়। এটি পুলিশেরই একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যাদের নির্দিষ্ট ধরনের জটিল ও গুরুতর অপরাধের তদন্ত এবং অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯ সালে রাজ্য পুলিশের অধীনে Special Task Force গঠন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে রাজ্যের কোনও থানায় নথিভুক্ত মামলার তদন্তের দায়িত্ব STF গ্রহণ করতে পারে। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট STF আধিকারিক থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের মতো তদন্ত-সংক্রান্ত ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারেন।
সাধারণত সন্ত্রাসবাদ বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ, বেআইনি অস্ত্র ও অস্ত্র পাচার, বিস্ফোরক সংক্রান্ত মামলা, মাদক পাচার, সংগঠিত অপরাধচক্র এবং বিশেষ আইনের অধীনে থাকা গুরুতর মামলায় STF-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত সরকারি নথিতে UAPA, NDPS Act, Arms Act-সহ একাধিক বিশেষ আইনের মামলার উল্লেখ রয়েছে।
কোনও অভিযুক্ত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বা অন্য রাজ্যে আত্মগোপন করলে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে STF অভিযান চালাতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার এই গোটা প্রক্রিয়ায় কাজ করে বিশেষ দল।
থানার পুলিশকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা, দৈনন্দিন অভিযোগ, চুরি-ছিনতাই থেকে মারামারি, দুর্ঘটনা-সহ নানা ধরনের ঘটনা সামলাতে হয়। STF-এর কাজ তুলনায় অনেক বেশি নির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত। প্রতিটি অপরাধে STF নামে না। বিশেষ গুরুত্ব, জটিলতা বা বৃহত্তর অপরাধচক্রের যোগ পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট মামলায় তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ কোনও এলাকায় STF পৌঁছনো মানেই স্থানীয় থানাকে সরিয়ে দেওয়া নয়। অনেক ক্ষেত্রেই জেলা পুলিশ, সংশ্লিষ্ট থানা এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই তদন্ত বা অভিযান এগোয়।
STF-এর বহু অভিযানের নেপথ্যে থাকে গোয়েন্দা তথ্য। অভিযুক্ত কোথায় লুকিয়ে রয়েছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, অপরাধচক্রের বিস্তার কতদূর এসব তথ্য যাচাইয়ের পর পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়। সেই কারণেই অনেক সময় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তকেও অন্য জেলা বা অন্য রাজ্য থেকে গ্রেফতার করতে দেখা যায়। তবে গ্রেফতার মানেই কেউ অপরাধী প্রমাণিত এমন নয়। তদন্তের পর আদালতেই অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্তের দায় নির্ধারিত হয়।
সব মিলিয়ে, STF হল পুলিশের সেই বিশেষ বাহিনী, যাদের মূল ভূমিকা জটিল ও গুরুতর অপরাধের তদন্তে বিশেষ দক্ষতা, গোয়েন্দা তথ্য এবং সমন্বিত অভিযানকে কাজে লাগানো। অপরাধের জাল যত বিস্তৃত ও জটিল হয়, STF-এর ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।












