বিধাননগর: নিরাপদ ভেবেই ব্যাঙ্কের লকারে রাখা হয়েছিল বছরের পর বছর ধরে জমানো সোনার গয়না। কিন্তু দীর্ঘদিন পর সেই লকার খুলতেই কার্যত মাথায় হাত পরিবারের! অভিযোগ, লকারের ভিতর থেকে উধাও প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের সোনার গয়না। উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগরের এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারিণী মমতা সিঙ্ঘি বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সাম্প্রতিক সংবাদসূত্রেও অভিযোগ দায়ের এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার গয়না নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, বিধাননগরের সিজে ব্লকে অবস্থিত Karnataka Bank-এর একটি লকার মমতা সিঙ্ঘি ও তাঁর পুত্রবধূ ঋষিকা আগারওয়ালের যৌথ নামে রয়েছে। অভিযোগ, গত ২৪ আগস্ট মমতার পুত্রবধূ ব্যাঙ্কে গিয়ে লকারটি খুলতেই হতবাক হয়ে যান। ভিতরে সোনার গয়না তো দূরের কথা, গয়নার বাক্স পর্যন্ত ছিল না লকার একেবারে ফাঁকা!
মমতা সিঙ্ঘির দাবি, এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর শেষবার তিনি লকারটি খুলেছিলেন। তখন সমস্ত গয়না যথাস্থানে ছিল। এরপর ২৪ আগস্ট পর্যন্ত পরিবারের কেউ লকারটি খোলেননি বলেই দাবি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বন্ধ লকার থেকে এত বিপুল পরিমাণ সোনা গেল কোথায়? কার হাতে খুলল লকার? কীভাবে উধাও হল গয়না?
পরিবারের দাবি, লকারে বহু বছরের সঞ্চিত সোনার গয়না রাখা ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। অভিযোগকারিণী ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তবে ঠিক কীভাবে গয়নাগুলি নিখোঁজ হয়েছে, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রত্যাশিত সহযোগিতা মেলেনি। যদিও ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ কয়েকজন আধিকারিক অভিযোগকারিণীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই যে ব্যাঙ্ক লকারকে মূল্যবান সামগ্রী রাখার নিরাপদ জায়গা বলে বিশ্বাস করেন গ্রাহকরা, সেখান থেকেই যদি কোটি টাকার গয়না উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠে, তবে নিরাপত্তার ভরসা কোথায়?
পুরো ঘটনার তদন্ত করছে বিধাননগর পুলিশ। তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে, এটি চুরির ঘটনা কি না এবং লকার থেকে গয়না উধাও হওয়ার নেপথ্যে ঠিক কী রহস্য রয়েছে।












