নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর: প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি। সামনে রেল সুরক্ষা বাহিনীর দলকে দেখেই আচমকা পালানোর চেষ্টা! কিন্তু শেষরক্ষা হল না। হিজলি রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করে তাঁদের কাছ থেকে ছ’টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করল আরপিএফ। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লক্ষ ৫ হাজার ৪৯৫ টাকা বলে রেল সূত্রের দাবি।
ঘটনাটি রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বরের। ট্রেনে যাত্রীদের জিনিসপত্র চুরি রুখতে খড়্গপুর ডিভিশনের আরপিএফের তরফে ‘যাত্রী সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় হিজলি স্টেশনে বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি চলছিল। রেল সূত্রের খবর, সেই সময় ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দুই ব্যক্তির গতিবিধি নজরে পড়ে আরপিএফ কর্মীদের। অভিযোগ, তল্লাশি দল এগিয়ে যেতেই তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। বালেশ্বর প্রান্তে প্ল্যাটফর্মের জলকুলারের কাছে দু’জনকে ধরে ফেলেন কর্তব্যরত কর্মীরা।
তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংস্থার ছ’টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার হয়। আরপিএফের দাবি, ফোনগুলির কোনওটিই তাঁরা আনলক করতে পারেননি। মালিকানা প্রমাণের মতো কোনও বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি।
এর পরেই বাড়ে সন্দেহ। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতেরা জানান, তাঁরা বালেশ্বর থেকে একটি এক্সপ্রেস ট্রেনে হিজলি এসেছিলেন। আরপিএফের দাবি, জেরার মুখে ট্রেনযাত্রার সময় যাত্রীদের কাছ থেকে ওই মোবাইলগুলি চুরি করার কথা তাঁরা স্বীকার করেছেন।
নিয়ম মেনে ফোনগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তল্লাশি থেকে বাজেয়াপ্ত এবং আটক পুরো প্রক্রিয়াই ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আরপিএফ। সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে। ICJS পোর্টালে যাচাই করে জানা যায়, ধৃতদের নাম ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার প্ল্যান্টসাইট থানায় নথিভুক্ত একটি পুরনো মামলাতেও রয়েছে, দাবি আরপিএফের।
আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে ধৃত দু’জনকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ খড়্গপুর জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় খড়্গপুর জিআরপি ১৫০/২০২৬ নম্বর মামলা রুজু করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৩(২), ৩১৭(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোর মুখে ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। সেই আবহে হিজলি স্টেশনে এই অভিযানের সাফল্য ফের এক বার যাত্রীদের সামগ্রী সুরক্ষায় নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে আনল।













