এগরা, নিজস্ব সংবাদদাতা: হাতে ডিগ্রি থাকলেই কি নিশ্চিত চাকরি? নাকি কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত? পড়াশোনা শেষ করে কোন পথে এগোবেন, উচ্চশিক্ষার জন্য কোন বিষয় বেছে নেবেন, নিজের প্রতিভা ও আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে কী ভাবে গড়বেন ভবিষ্যৎ এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল এগরা পুরসভা।
রাজ্যজুড়ে চলা ‘সেবা সংকল্প অভিযান ২০২৬’-এর জনসচেতনতা ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের ভাবনাকে সামনে রেখে শুক্রবার, ৯ অক্টোবর এগরা সারদা শশীভূষণ কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় ‘কেরিয়ার কাউন্সেলিং মিট–২০২৬’। এগরা পুরসভার উদ্যোগে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সকাল ১১টা থেকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শুধু সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নয়, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা এবং বিভিন্ন পেশার সম্ভাবনা সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের বক্তাদের তালিকায় ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংগঠক তথা দশগ্রাম অনুরণ প্রাইভেট আইটিআই এবং নারায়ণগড় নমিতা দেবী প্রাইভেট আইটিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর তরুণ কুমার মাইতি। পেশাগত শিক্ষার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও এই কর্মসূচির অন্যতম আলোচ্য ছিল।
নিজের প্রতিভা চিনুন, লক্ষ্য স্থির করুন, তার পর বেছে নিন পেশা। এই ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাউন্সেলিং কর্মসূচিতে চারটি বিষয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। নিজের সক্ষমতা ও আগ্রহ চিহ্নিত করা, বিভিন্ন পেশার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা তৈরি, ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
প্রসঙ্গত, রাজ্যজুড়ে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ‘সেবা সংকল্প অভিযান ২০২৬’-এর অধীনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং জনকল্যাণমূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেই বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
কেরিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বহু পড়ুয়াই এক কঠিন দ্বিধার মুখোমুখি হন। একদিকে পরিবারের প্রত্যাশা, অন্যদিকে নিজের স্বপ্ন। তার সঙ্গে রয়েছে কর্মসংস্থানের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা। ফলে শুধু পরীক্ষায় ভাল ফল করাই যথেষ্ট নয়, নিজের দক্ষতা অনুযায়ী সঠিক পেশা নির্বাচন করাও সমান জরুরি। ‘Helping You Shape Your Future’ অর্থাৎ ভবিষ্যৎ গড়ার পথে পাশে থাকার অঙ্গীকার। এই বার্তাকে সামনে রেখেই কর্মসূচির প্রচার করা হয়।
শিক্ষামহলের মতে, জেলা ও মফস্সলের পড়ুয়াদের কাছে এই ধরনের কাউন্সেলিং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই উপযুক্ত পরামর্শের অভাবে মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা সঠিক পেশার পথ খুঁজে পান না। শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, সেই শিক্ষাকে বাস্তব কর্মজীবনে কাজে লাগানোর প্রস্তুতিও প্রয়োজন। এগরার এই উদ্যোগ সেই বার্তাই নতুন করে সামনে আনল। ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আবহে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিশা দেখানোর এই প্রচেষ্টা শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ।









