প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

পানের পিক থেকে সিগারেটের ধোঁয়া, আদালত চত্বরে সব বন্ধের পথে

Published on: October 12, 2026
---Advertisement---

কলকাতা: আদালত চত্বরে পান-গুটখার পিক কিংবা সিগারেটের ধোঁয়া এ বার কি সে সবের উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি হতে চলেছে? রাজ্যের বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামোয় শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বড়সড় উদ্যোগ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্ট-সহ রাজ্যের সমস্ত জেলা আদালত চত্বরে পান, গুটখা ও সিগারেটের ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে পদক্ষেপ শুরু করেছেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাব জানিয়ে জেলা জজদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, বারুইপুর আদালতে এক আইনজীবীর উপর হামলা সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি নিজেই এই উদ্যোগের কথা জানান। শুধু তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করাই নয়, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়েও একাধিক প্রস্তাব উঠে এসেছে। আদালত চত্বরে কারা প্রবেশ করছেন, তাঁদের সঙ্গে কী রয়েছে। সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের সমস্ত আদালতের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর বসিয়ে প্রত্যেককে পরীক্ষার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। আইনজীবী, আদালতের কর্মী থেকে সাধারণ বিচারপ্রার্থী সবাইকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আনার ভাবনাচিন্তা চলছে।

তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার আগে বার কাউন্সিল ও বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করতে চান প্রধান বিচারপতি। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলিকে বৈঠক করে নিজেদের মতামত লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। সেই মতামত পাওয়ার পরই নিরাপত্তা পরীক্ষা সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আদালত চত্বরে পান, গুটখা ও সিগারেটের ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগের মধ্যেই শুনানিতে উপস্থিত আইনজীবীদের একাংশ পৃথক ‘স্মোকিং জোন’ তৈরির প্রস্তাব দেন। অর্থাৎ, আদালত চত্বরের নির্দিষ্ট কোনও স্থানে ধূমপানের ব্যবস্থা রাখা যায় কি না, সেই বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফলে আদালত চত্বরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, নাকি কোনও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে আইনজীবী মহলের।

প্রসঙ্গত, বারুইপুর আদালতে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরেই সোমবার হাইকোর্টে শুনানি চলছিল। অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসে আদালত চত্বরে কর্মরত অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পরেও আক্রান্ত আইনজীবীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়নি। এই মামলায় তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ১১ ডিসেম্বর রাজ্যকে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগ ঘিরে রাজ্যের আদালত মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াতের জায়গা আরও পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রস্তাবগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত আদালতে পান, গুটখা ও সিগারেট নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে আদালত চত্বরে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। আপাতত জেলা জজ ও আইনজীবী সংগঠনগুলির মতামতের পর হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now