কলকাতা: বাইরে থেকে সব কিছু স্বাভাবিক। অথচ আড়ালেই চলছিল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বেআইনি কারবার! কলকাতার অদূরে এমনই এক গোপন ‘মিনি গান ফ্যাক্টরি’র হদিস মেলার খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ অভিযানে ওই কারখানার সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত হওয়ার খবর মিলেছে। তবে এই বেআইনি কারবারের নেপথ্যে কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লোকচক্ষুর আড়ালে চলছিল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কাজ। সেই কারবারের খবর পেয়েই যৌথ অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে সামনে আসে গোপন কারখানার অস্তিত্ব। উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং সেগুলি তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।
ঘটনা সামনে আসতেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কী ভাবে কলকাতার এত কাছে গড়ে উঠল বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানা? কারা চালাচ্ছিল এই ব্যবসা? তৈরি হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় সরবরাহ করা হত? স্থানীয় কোনও চক্রের হাত রয়েছে, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বৃহত্তর অস্ত্র পাচার নেটওয়ার্ক?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কাদের মদতে চলছিল এই বেআইনি কারবার? অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শুধু আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রাখা নয়, সেখানে অস্ত্র উৎপাদনের কাজ চলত বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে কারখানাটির প্রকৃত পরিধি, কত দিন ধরে সেখানে কাজ চলছিল এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ধরনের বেআইনি কারখানার হদিস মেলায় স্বাভাবিক ভাবেই সামনে আসছে নিরাপত্তার প্রশ্নও। তৈরি হওয়া অস্ত্র অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোথাও পাচার করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। কারখানার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং অস্ত্র সরবরাহের পথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে স্পষ্ট হতে পারে গোটা চক্রের গতিবিধি। রাজধানী কলকাতার এত কাছে গোপনে অস্ত্র তৈরির কারবারের অভিযোগ ঘিরে এখন একটাই বড় প্রশ্ন কারখানার হদিস মিলেছে, কিন্তু এর নেপথ্যের মূল কারবারিরা কারা?












