নিজস্ব সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের চোখরাঙানি! ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতা অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায়। বুধবার প্রবল থেকে অতি প্রবল বৃষ্টির সতর্কতার জেরে অন্ধ্রপ্রদেশের ছয় জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
শ্রীকাকুলম, বিজয়নগরম, পার্বতীপুরম মন্যম, বিশাখাপত্তনম, আল্লুরি সীতারাম রাজু ও অনাকাপল্লি এই ছয় জেলায় বুধবার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পড়ুয়াদের ছুটি হলেও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কারণ, পরিস্থিতি খারাপ হলে স্কুল ভবনগুলিই হয়ে উঠতে পারে দুর্গত মানুষের আশ্রয়স্থল। সেই কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখছে প্রশাসন।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। মৌসম ভবনের লাল সতর্কতার পর থেকেই উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শুধু অন্ধ্রপ্রদেশ নয়, প্রতিবেশী ওড়িশাতেও একই ছবি। খোরধা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম, গজপতি-সহ একাধিক জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালকানগিরিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমস্ত স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে।
দুর্যোগের আশঙ্কায় প্রশাসনিক কর্মীদেরও কার্যত ‘ছুটি নেই’। গঞ্জাম, কোরাপুট ও কালাহান্ডিতে সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কোরাপুট ও কালাহান্ডির শিক্ষকদেরও ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মস্থল না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে উপকূলবর্তী দুই রাজ্যে এখন একটাই লক্ষ্য আগে থেকেই প্রস্তুতি, যাতে দুর্যোগ আঘাত হানলেও ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। ফলে স্কুলে ছুটি থেকে সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল। সব মিলিয়ে গভীর নিম্নচাপ ঘিরে অন্ধ্র-ওড়িশাজুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা।














