নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মিছিল ঘিরে উত্তেজনা থেকে হাতাহাতি, তারপর ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি ও ভাঙচুরের অভিযোগ। মঙ্গলবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার মুকুন্দপুর। বিজেপি এবং কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় গোলমালে একসময় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নামতে হয় পুলিশকে।
সংঘর্ষে আহত হন ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন পুলিশকর্তা হুমায়ুন কবীর। ঘটনার পর তাঁর মুখে রক্ত ও চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় একটি ভিডিয়োয়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের হামলাতেই তিনি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরীকেও আক্রমণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূলের একাংশ। বিজেপি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জানা গিয়েছে, মুকুন্দপুরে একটি দলীয় কার্যালয় ‘দখলমুক্ত’ করার দাবিতে এদিন মিছিল করেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সেই কর্মসূচিতে হুমায়ুন কবীর ও উপাসনা চৌধুরী-সহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। মিছিল চলাকালীনই আচমকা উত্তেজনা ছড়ায় বলে অভিযোগ।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের একাংশ মিছিলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি হামলা চালায়। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ইট-পাথরও ছোড়া হয়। গোলমালের মধ্যে একটি গাড়ির কাচ ভাঙার ঘটনাও ঘটে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
সংঘর্ষের পর আহত অবস্থায় হুমায়ুন কবীর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁর উপর হামলা হয়েছে। মারধরে তাঁর চোখ-মুখে চোট লেগেছে এবং পোশাকও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি।
উপাসনা চৌধুরীর উপর হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, শুধু মিছিলেই নয়, পরবর্তী সময়ে তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযোগও বিজেপি অস্বীকার করেছে। পাল্টা বিজেপির দাবি, মুকুন্দপুরের গোলমালের সঙ্গে তাদের দলের কোনও যোগ নেই। বিজেপি মুখপাত্র সপ্তর্ষি চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। একে বিজেপির উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তাদের দাবি।
সব মিলিয়ে মিছিলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের মুকুন্দপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনার ছবি সামনে এসেছে। একদিকে হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে গোষ্ঠীকোন্দলের পাল্টা দাবি দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাঝেই ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।












