প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখতে চাইলে, আজই পরিবার নিয়ে ঘুরে আসুন লক্ষণনাথ রাজবাড়ি

Published on: July 29, 2026
---Advertisement---

Sabang Bulletin: উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলার জলেশ্বর মহকুমার লক্ষণনাথ গ্রামে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন লক্ষণনাথ রাজবাড়ি বা মহাশয়গড়। পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা সীমান্তের এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য কেবল একটি রাজপ্রাসাদ নয়, বরং দুই বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন।

ইতিহাসবিদদের মতে, এই রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন লক্ষ্মীনারায়ণ রায় মহাশয়। তাঁর পূর্বপুরুষ রামচন্দ্র মহাশয় হোসেন শাহের আমলে জলেশ্বর অঞ্চলের জমিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। পরবর্তীকালে লক্ষ্মীনারায়ণ রায় মহাশয় ধর্মাচরণ ও প্রজাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সুবর্ণরেখা নদীর তীরবর্তী জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় নতুন আবাস গড়ে তোলেন। স্থানীয় এক শিবভক্ত লক্ষণ নাথ-এর সহায়তায় এই রাজবাড়ি নির্মিত হয় এবং তাঁর নামানুসারেই এলাকার নাম হয় লক্ষণনাথ।

১৭২০ সালের দিকে নির্মিত এই রাজবাড়ি একসময় প্রায় দুই একর জমির উপর বিস্তৃত ছিল। বিশাল অট্টালিকায় ছিল সাতটি উঠোন, শতাধিক দরজা-জানালা, ঠাকুরদালান, নাটমন্দির, রাসমঞ্চ, কুলদেবীর মন্দির, গোশালা, অশ্বশালা ও হাতিশালাসহ নানা স্থাপনা। সময়ের সঙ্গে অনেক অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও এখনও রাজবাড়ির স্থাপত্য অতীতের গৌরবের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

এই রাজবাড়ির আরেকটি বড় পরিচয় তার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা। ১৭২০ সাল থেকেই এখানে দুর্গাপূজার সূচনা হয় বলে জানা যায়। একসময় এই পূজাকে ঘিরে বিশাল মেলা বসত এবং পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হতেন। আজও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

রাজবাড়ির সামনে সারিবদ্ধ শিবমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির এবং আশপাশের ধর্মীয় স্থাপনাগুলি এই অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি সুবর্ণরেখা নদীর মনোরম পরিবেশ ও প্রাচীন স্থাপত্যের টানে সারা বছরই পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের আনাগোনা লেগে থাকে।

আজ রাজতন্ত্রের যুগ শেষ হলেও লক্ষণনাথ রাজবাড়ি এখনও অতীতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বাংলার জমিদারি ইতিহাসের এক অমূল্য স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও পরিচিত হয়ে উঠবে এমনটাই আশা ইতিহাস প্রেমীদের।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now