শালবনি: জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামের মাঠে ফুটবল হাতে শুরু হয়েছিল স্বপ্নের দৌড়। সেই স্বপ্ন এবার পাড়ি দিচ্ছে হাজার কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবে। শালবনি ফুটবল একাডেমির দুই খুদে ফুটবলার রোহন মাহাত ও সমর বাসফোর এবার সুযোগ পেল পাঞ্জাবের মিনার্ভা ফুটবল একাডেমির অনূর্ধ্ব-১৪ দলে। শনিবার দুই প্রতিভাবান ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরও সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শালবনি ফুটবল একাডেমির কর্তৃপক্ষ থেকে প্রশিক্ষক ও সতীর্থরা।
শালবনি এলাকার কলসিভাঙ্গা গ্রামের ছেলে রোহন মাহাত। অন্যদিকে মেদিনীপুর শহরের সমর বাসফোর। ভৌগোলিকভাবে দুই জায়গার দূরত্ব থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাঁদের এনে দিয়েছিল একই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। গত প্রায় তিন বছর ধরে শালবনি ফুটবল একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের তৈরি করেছে দুই খুদে খেলোয়াড়। অবশেষে কঠোর অনুশীলনের ফল মিলল বড় সুযোগের হাত ধরে।
শালবনির নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্টেডিয়াম থেকেই তৈরি হচ্ছে এই ফুটবল প্রতিভাদের ভিত। ২০১১ সালে শালবনি জাগরণ ফুটবল একাডেমি নামে পথচলা শুরু হয়েছিল। শুরুতে মূল লক্ষ্য ছিল মহিলা ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পরবর্তীতে বয়সভিত্তিক ফুটবল প্রশিক্ষণও শুরু হয়। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শালবনি ফুটবল একাডেমি। বর্তমানে এই একাডেমিতে প্রায় ১৫০ জন ফুটবলার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সম্পাদক সন্দীপ সিংহ। প্রত্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
রোহন ও সমরের মিনার্ভায় সুযোগ পাওয়া শুধু দুই পরিবারের আনন্দের কারণ নয়, শালবনির ফুটবলচর্চার ক্ষেত্রেও তা নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি। কারণ, স্থানীয় মাঠে অনুশীলন করা দুই খুদে খেলোয়াড় এবার দেশের অন্যতম পরিচিত ফুটবল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার অংশ হওয়ার সুযোগ পেল। একাডেমির কর্মকর্তাদের আশা, রোহন ও সমরের এই সাফল্য শালবনির আরও বহু খুদে ফুটবলারকে বড় স্বপ্ন দেখাবে। প্রত্যন্ত এলাকার মাঠ থেকেই যে জাতীয় স্তরের ফুটবলের দরজা খুলে যেতে পারে, দুই খুদে প্রতিভার সাফল্য যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে। জঙ্গলমহলের মাটি থেকে পাঞ্জাবের ফুটবল মঞ্চ রোহন ও সমরের এই যাত্রা এখন শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, শালবনির ফুটবলের নতুন স্বপ্নেরও শুরু।











