প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

বালেশ্বরে রেলকর্মীদের সিপিআর ও ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ

Published on: July 28, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালেশ্বর: রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা বা আকস্মিক স্বাস্থ্যজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে বালেশ্বর রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রন্টলাইন রেলকর্মীদের জন্য আয়োজন করা হল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সিপিআর (CPR) ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। খড়্গপুর ডিভিশনের St. John Ambulance Brigade-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের রেলকর্মীরা।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল রেলকর্মীদের এমন জীবনরক্ষাকারী দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা, যাতে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে চিকিৎসক বা অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছানোর আগেই তারা কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হন। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক পাঠের পাশাপাশি ছিল বাস্তবভিত্তিক হাতে-কলমে অনুশীলন। অংশগ্রহণকারীদের কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR), বেসিক লাইফ সাপোর্ট (BLS), অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (AED)-এর ব্যবহার, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শক মোকাবিলা, হাড় ভাঙার প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্যান্ডেজ করার কৌশল, আহত ব্যক্তিকে নিরাপদে বহন, অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল লাইভ সিপিআর প্রদর্শনী। বিশেষ সিপিআর ম্যানিকিনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা বুকে চাপ (চেস্ট কম্প্রেশন) ও জরুরি চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ নিজেরাই অনুশীলন করেন। প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এই বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন রেলকর্মীদের আত্মবিশ্বাস ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। প্রশিক্ষকরা জানান, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেই সময়ে সঠিকভাবে সিপিআর ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োগ করা গেলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই রেলকর্মীদের নিয়মিত এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খড়্গপুর ডিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে আরও নিরাপদ, সচেতন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম রেলব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now