নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: ১১ আগস্ট শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস। তার ঠিক আগেই বীর বিপ্লবীর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সরব হল মেদিনীপুর। মেদিনীপুর থেকে মুজফ্ফরপুর পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালু এবং সেই ট্রেনের নাম ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু এক্সপ্রেস’ করার দাবি জানিয়ে ভারতের রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানালেন মেদিনীপুরের যুবক অরিন্দম ভৌমিক ও শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর দিদি অপরূপা দেবীর নাতি সুব্রত রায়। শনিবার মুজফ্ফরপুরের সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী রাজ ভূষণ চৌধুরীর হাতে দাবিপত্রের প্রতিলিপি তুলে দেন তাঁরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিহারের পর্যটন মন্ত্রী কেদার প্রসাদ গুপ্তও।
শুধু ক্ষুদিরামের নামে ট্রেন চালানো নয়, তাঁদের তরফে মোট তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, মেদিনীপুর থেকে মুজফ্ফরপুর পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মেদিনীপুর হয়ে হাওড়া থেকে মুজফ্ফরপুর পর্যন্ত একটি ট্রেন চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, মেদিনীপুর-মুজফ্ফরপুর সরাসরি ট্রেনটির নাম রাখতে হবে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু এক্সপ্রেস’। অরিন্দমদের দাবি, ক্ষুদিরাম বসুর জীবন ও আত্মত্যাগের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে রয়েছে মেদিনীপুর ও মুজফ্ফরপুর। মেদিনীপুর তাঁর জন্মভূমি, আর মুজফ্ফরপুর তাঁর আত্মবলিদানের পুণ্যভূমি। দুই শহরের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এত গভীর হওয়া সত্ত্বেও আজও নেই সরাসরি রেল যোগাযোগ।
দাবিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুর যাওয়ার সময় ক্ষুদিরাম বসু প্রথমে মেদিনীপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন। পরে কলকাতা থেকে ট্রেনে মুজফ্ফরপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। অথচ ১১৮ বছর পরেও মেদিনীপুর থেকে মুজফ্ফরপুর যেতে কলকাতা হয়ে যেতে হয়। একইভাবে মুজফ্ফরপুর থেকেও মেদিনীপুরে আসতে ঘুরপথ অবলম্বন করতে হয়।
অরিন্দমদের বক্তব্য, সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধাই হবে না, দুই ঐতিহাসিক শহরের মধ্যে তৈরি হবে এক নতুন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সংযোগ। ক্ষুদিরামের স্মৃতির সঙ্গে মেদিনীপুরের মাটির যোগও দীর্ঘদিনের। কথিত রয়েছে, আত্মবলিদানের আগে ক্ষুদিরাম তাঁর পুণ্যভূমি মেদিনীপুরের মাটিতে শেষবার পা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
সেই আবেগ থেকেই গত কয়েক বছর ধরে মেদিনীপুরের মাটি নিয়ে মুজফ্ফরপুরে ক্ষুদিরামের চিতাস্থলে পৌঁছে তা অর্পণ করে আসছেন অরিন্দম ভৌমিক।
পাশাপাশি সেই মাটিতে একটি করে চারাগাছও রোপণ করেন তিনি। এ বছরও ক্ষুদিরামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাটি সংগ্রহ করে মুজফ্ফরপুরে পৌঁছেছেন অরিন্দম। ১১ আগস্ট আত্মবলিদান দিবসে সেই মাটি ক্ষুদিরামের চিতাস্থলে অর্পণ করা হবে। এই কর্মসূচির সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। শনিবার তাঁর হাতে তিন দফা দাবিসংবলিত চিঠি তুলে দেন অরিন্দম ও সুব্রত।
শুধু রেল যোগাযোগ নয়, মুজফ্ফরপুরে ক্ষুদিরাম বসুর বিচারপর্বের স্মৃতিও সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। মুজফ্ফরপুর আদালতে বিচার চলাকালীন যে কাঠের ঘেরাটোপের মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন ক্ষুদিরাম, সেই ঐতিহাসিক কাঠের অংশ এখনও রয়েছে বলে দাবি অরিন্দমদের। এই ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য মুজফ্ফরপুরের জেলাশাসকের কাছেও চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অরিন্দমের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন। খুব শীঘ্রই রেলমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এর আগে মেদিনীপুরের তৎকালীন বিধায়ক জুন মালিয়ার কাছেও এই দাবি জানানো হয়েছিল বলে জানান অরিন্দমরা। বর্তমান বিধায়ক শংকর গুছাইতকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। শহীদ ক্ষুদিরামের আত্মবলিদানের ১১৮ বছর পর তাই নতুন প্রত্যাশা জন্মভূমি মেদিনীপুর থেকে আত্মবলিদানের শহর মুজফ্ফরপুর কি এবার সরাসরি রেলপথে যুক্ত হবে? আর সেই রেলপথে কি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে শহীদ ক্ষুদিরামের নাম?














