নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্ষা বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু। তার মধ্যেই ফের বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের চোখরাঙানি। আর সেই নিম্নচাপের জেরেই সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ফের ভিজতে চলেছে বাংলা। দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় বাড়ছে দুর্যোগের শঙ্কা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন হতে পারে।
নিম্নচাপের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। বিশেষ নজরে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম। নিম্নচাপের প্রভাবে এই দুই জেলায় বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
শুধু বৃষ্টি নয়, সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া। ফলে খোলা মাঠ, নদীর পাড়, জলাশয় কিংবা ফাঁকা জায়গায় থাকা নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। বজ্রবিদ্যুতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো উপকূলবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। সমুদ্রও উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও পাদদেশের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাব থেকে রেহাই নেই কলকাতারও। মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। ফলে শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্ষা বিদায়ের আগে ফের নিম্নচাপ এখন নজর আকাশের দিকে। বৃষ্টি কতটা বাড়ে, আর তার জেরে জনজীবনে কতটা প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।












