বালেশ্বর: মঙ্গলবার সকাল। জঙ্গলের মধ্যে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে পাঁচটি অচেনা প্রাণী! দূর থেকে তাদের দেখেই চোখ কপালে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এমন প্রাণী এর আগে এই জঙ্গলে তো দূরের কথা, আশপাশের এলাকাতেও দেখেননি কেউ। সন্দেহ দানা বাঁধতেই খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনকর্মীরা। জঙ্গলের ভিতরে শুরু হয় তল্লাশি। কিছুক্ষণ পরেই সামনে আসে সেই পাঁচ ‘অতিথি’। কিন্তু তাদের দেখে এবার অবাক বনকর্মীরাও! এরা কি সত্যিই এই জঙ্গলের প্রাণী? নাকি অন্য কোথাও থেকে এসে হাজির হয়েছে? আরও ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতেই সামনে আসে চমকপ্রদ তথ্য। অচেনা পাঁচ প্রাণী আসলে ওরাংওটাং! একটি-দুটি নয়, একসঙ্গে পাঁচটি! কিন্তু প্রশ্ন হল বালেশ্বরের জঙ্গলে ওরাংওটাং এল কীভাবে?
ওরাংওটাং ভারতের জঙ্গলের স্বাভাবিক বাসিন্দা নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘন অরণ্যই তাদের মূল আবাসস্থল। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের দেখা যায়। তাহলে সেই প্রাণীরাই বা কীভাবে পৌঁছে গেল ওডিশার বালেশ্বরের জঙ্গলে? স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে রাঙ্কোঠা বড়পাহাড় এলাকায় পৌঁছে তল্লাশি চালায় বন দপ্তর। শেষ পর্যন্ত পাঁচটি ওরাংওটাংকেই উদ্ধার করা হয়। নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রথমেই করা হয় তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। কেউ অসুস্থ বা আহত কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডাকা হয় ভেটেরিনারি দল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। এরপর পাঁচটি ওরাংওটাংকে পাঠানো হয় ভুবনেশ্বরের নন্দনকাননে। সেখানে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাদের। তবে প্রাণীগুলি উদ্ধার হলেও কাটেনি রহস্য। বরং প্রশ্ন আরও বেড়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাণী বালেশ্বরের জঙ্গলে এল কীভাবে? নিজেরা কি এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে?নাকি কেউ তাদের এখানে এনে ছেড়ে দিয়েছে? তাহলে কোথা থেকেই বা এসেছিল এই পাঁচ ওরাংওটাং?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন নজর তদন্তে। কারণ পাঁচ ‘অচেনা অতিথি’র পরিচয় জানা গেলেও তাদের বালেশ্বরে পৌঁছনোর রহস্য এখনও রয়ে গেল!














