নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: একদিকে উপনির্বাচনের কাউন্টডাউন, অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে লক্ষ লক্ষ আপিলের জট। তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি এগিয়ে আনার আবেদন গ্রহণ করল না সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ৫ অক্টোবর, এসআইআর সংক্রান্ত মামলাটি শুনবে শীর্ষ আদালত।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-র বেঞ্চের সামনে বিষয়টি তোলা হয়। আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, মামলাটি আগে ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত থাকলেও পরে ৫ অক্টোবর দেখানো হচ্ছে। উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তার আগেই শুনানির আবেদন জানানো হয়। কিন্তু শুনানির তারিখ এগিয়ে আনতে রাজি হয়নি বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এগুলি শুধু উপনির্বাচন।” আদালত জানিয়ে দেয়, মামলা ৫ অক্টোবরই শোনা হবে।
আদালতে আইনজীবীর দাবি, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের একাংশ আগের নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেননি। ফলে উপনির্বাচনের আগে আপিলগুলির নিষ্পত্তি না হলে ফের ভোট দেওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই যুক্তিতেই দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছিল।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-পরবর্তী আপিলের পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২.২১ লক্ষ ভোটার, অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ, নাম ফেরানোর আবেদন নিয়ে আপিল করেছেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নামের বিরুদ্ধেও প্রায় ১৬.১০ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৮.৩১ লক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই আপিলগুলি শোনার জন্য রাজ্যে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক আবেদন জমে থাকার পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ফলে এখন নজর ৫ অক্টোবরের সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে। তার মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটগ্রহণ। এসআইআর সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন আপিলের প্রশ্নে ওই দিনের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেটিই এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।














