নিজস্ব সংবাদদাতা: টানা বৃষ্টি, নিম্নচাপ আর দুর্যোগের পর অবশেষে বদলাতে শুরু করেছে বাংলার আবহাওয়া। নতুন করে কোনও নিম্নচাপ বা শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি না হলে পুজোর আগেই রাজ্য থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়ার বর্তমান গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে বাংলায় বর্ষার পরিসমাপ্তি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। তবে মায়ানমার সংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বিচ্ছিন্ন কিছু মেঘপুঞ্জ রাজ্যের আকাশে ঢুকে পড়লে স্থানীয় ভাবে অল্প সময়ের জন্য হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলার দু’-একটি জায়গায় সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার ছবিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ এলাকাতেই শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা। তবে গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা নামতে পারে। ভোরের দিকে কয়েকটি জেলায় হালকা কুয়াশাও দেখা দিতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় শুষ্ক আবহাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপকূলের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি হলেও আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও বড় ইঙ্গিত নেই।
এ দিকে বর্ষা বিদায়ের রেখাও ধীরে ধীরে পূর্ব ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে। ৩ অক্টোবরের মধ্যে তা বিহার ও ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে তার পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলা থেকেও মৌসুমি বায়ু সরে যেতে পারে। এই মরসুমে বৃষ্টির পরিসংখ্যানে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে প্রায় ৯ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও উত্তরবঙ্গে প্রায় ১৪ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। সেই হিসাব নিয়েই এ বছরের মতো বিদায়ের পথে বর্ষা।
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিনের বেলায় আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর গরম ও ঘাম বজায় থাকবে। তবে ৩ অক্টোবরের পর থেকে ভোরের আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সকালের দিকে হালকা কুয়াশা এবং শিরশিরে অনুভূতি ফিরতে পারে। সব মিলিয়ে, নতুন করে কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা বাধা না দিলে বাংলায় বর্ষার শেষ অধ্যায় এখন সময়ের অপেক্ষা। বৃষ্টিভেজা দিনের পর ধীরে ধীরে দরজায় কড়া নাড়ছে শরতের শুষ্ক, নরম আবহাওয়া।














