নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে ক্রমশ চড়ছে প্রতিবাদের সুর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবার রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। শনিবার তাদের ‘যন্তরমন্তর চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করার ঘটনায় নতুন করে শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-তে নিজের বাসভবন থেকে ধ্রুব রাঠীকে আটক করে পুলিশ। দিল্লির যন্তরমন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন।
মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখেই আন্দোলনে নেমেছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি। এই আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থনও ক্রমশ বাড়ছে। আম আদমি পার্টি, বামপন্থী দলগুলি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সিজেপির কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। অন্য দিকে, দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
শনিবার সকাল থেকেই যন্তরমন্তর-সহ দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী। ব্যারিকেড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যান চলাচল। একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানের উপরেও বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। ধ্রুব রাঠীকে আটক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিজেপি।
সংগঠনের দাবি, আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগেই প্রতিবাদীদের আটক করে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। ধ্রুব রাঠী-সহ আটক আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানিয়েছে তারা। এখন প্রশ্ন, ধ্রুব রাঠীকে আটক করার পর কি আরও তীব্র হবে আন্দোলন? নাকি কড়া পুলিশি নজরদারিতে থমকে যাবে ‘যন্তরমন্তর চলো’ কর্মসূচি? ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের আবহে শনিবারের এই ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।














