নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে এ বার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ বিরোধী শিবিরের। সোমবার রাজধানী দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে পথে নামলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হল প্রতিবাদ মিছিল। তবে এই কর্মসূচির মধ্যেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না মেলায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ছিল টানটান উত্তেজনা। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি।
এই পরিস্থিতিতেই আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দেন রাহুল গান্ধী। তাঁর নেতৃত্বে পথে নামেন বিরোধী জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ ফিরিয়ে আনার দাবিও উঠেছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের আগেই কেন বিরোধীদের সাক্ষাতের আবেদন খারিজ করলেন প্রধান বিচারপতি?
জানা গিয়েছে, রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে সাক্ষাতের সময়ও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রবিবার, ১১ অক্টোবর চিঠি দিয়ে তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন প্রধান বিচারপতি।
চিঠিতে প্রধান বিচারপতি জানান, বিরোধীরা যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে চাইছেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই অবস্থায় আদালতের বাইরে পৃথক বৈঠকে সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা বিচারবিভাগীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী হতে পারে। পাশাপাশি সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
তবে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করলেও আইনি প্রতিকারের পথ খোলা রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা। উপযুক্ত আইনি পদ্ধতি মেনে আবেদন জানালে তা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হতে পারে। এদিকে বিরোধীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। একাধিক মেট্রো স্টেশনের পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করতেই পথে নামতে হয়েছে তাঁদের। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকেও নিশানা করেছেন বিরোধী নেতৃত্ব। পাল্টা বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সব মিলিয়ে এসআইআর এবং ‘ভোট চুরি’ বিতর্কে জাতীয় রাজনীতির পারদ ক্রমশ চড়ছে। রাজপথে প্রতিবাদ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিরোধীদের এই আন্দোলনের জেরে কি ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত আসবে? নাকি আগামী দিনে আরও তীব্র হবে নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধী শিবিরের সংঘাত?














