প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

মাঝ আকাশে ভয়াবহ বিপর্যয়! ভেঙে পড়ল পাক সেনার প্রশিক্ষণ বিমান, দুই পাইলটের মৃত্যুতে তোলপাড়

Published on: October 13, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রশিক্ষণ চলছিল পুরোদমে। কিন্তু সেই উড়ানই যে দুই পাইলটের জীবনের শেষ উড়ান হয়ে উঠবে, তা কে জানত! মাঝ আকাশে আচমকা যান্ত্রিক বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই সেনা পাইলট। সোমবার দুপুরে পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই ফের সামনে এসেছে পাক সেনার বিমান নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।

পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ দফতর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার, ১২ অক্টোবর দুপুর নাগাদ কোয়েটার নাওয়ান কিল্লি এলাকায় ভেঙে পড়ে পাকিস্তান আর্মি অ্যাভিয়েশনের একটি ‘মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান। প্রাথমিক ভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতে ছিলেন দুই সেনা আধিকারিক। একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক পাইলট মেজর হুসনাইন শাহজাদ হুমায়ুন। অন্য জন প্রশিক্ষণরত ক্যাপ্টেন আব্দুল সামাদ। দুর্ঘটনায় দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কী এমন ঘটেছিল মাঝ আকাশে? উড়ানের সময় বিমানের কোন অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছিল? বিপদ বুঝেও কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পাননি পাইলটেরা? এই সমস্ত প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। পাক সেনার তরফে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানানো হলেও তার প্রকৃতি ও বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

এই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুন মাসেও ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল পাকিস্তান। মুজাফ্‌ফরাবাদের কাছে ওড়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভেঙে পড়েছিল সেনাবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। প্রাণ হারিয়েছিলেন হেলিকপ্টারে থাকা সকলেই। সেই জুন মাসেই মারদান এলাকায় প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিধ্বস্ত হয়েছিল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর আরও একটি বিমান। মৃত্যু হয়েছিল দুই পাইলটের। তার আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডায়ামর জেলার চিলাস এলাকায় সামরিক হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ায় প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচ জন ক্রু সদস্য।

একের পর এক এমন দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলছে সামরিক বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণকালীন সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। যদিও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলির মধ্যে কোনও সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রমাণ মেলেনি। কোয়েটার দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলটের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। একই ভাবে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও।

তবে শোকপ্রকাশের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান। সামরিক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেন বারবার প্রাণ হারাচ্ছেন পাইলটেরা, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। প্রশিক্ষণ বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক কোথায় হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোয়েটার আকাশে দুই পাইলটের মৃত্যুর নেপথ্যের সম্পূর্ণ কারণ জানতে এখন বিস্তারিত তদন্তের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now