নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নিজের বাড়িতে হামলার অভিযোগ করেছিলেন। আর সেই হামলা নিয়ে সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করেই এবার পুলিশের তলবের মুখে বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য! তবে পুলিশের ডাকেও নিজের অবস্থানে অনড় তিনি। মঙ্গলবার গড়ফা থানায় হাজিরার নির্দেশ থাকলেও সেখানে যাননি প্রাক্তন সাংসদ। বুধবার ফের তাঁকে কসবা থানায় তলব করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের চাপে নতি স্বীকার তো দূরের কথা, উল্টে অভিযোগকারীদের দিকেই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিকাশরঞ্জন। বিকাশরঞ্জনের সাফ বক্তব্য, “যারা এই অভিযোগগুলো করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে আমার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করছে।”
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভোরে। অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ও ইট ছোড়া হয়। ভাঙচুর করা হয় জানলার কাচ। ঘটনায় তদন্তে নেমে বাপ্পা গুছাইত নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু হামলার ঘটনা ঘিরে বিতর্ক থামার বদলে আরও তীব্র হয়। হামলার পর সমাজমাধ্যমে সরব হন সিপিএম নেতা। দুষ্কৃতীদের ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর সেই মন্তব্যেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ ওঠে। সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। পোস্ট থেকে বিতর্কিত শব্দ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। যদিও নিজের মন্তব্য থেকে সরে আসেননি বিকাশরঞ্জন।
এরপরই গড়ফা এবং কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দু’টি পৃথক থানায় হাজিরার নোটিস পাঠানো হয় তাঁকে। ১৩ অক্টোবর গড়ফা এবং ১৪ অক্টোবর কসবা থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু প্রথম দিনের হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। প্রয়োজনে আইনি পথেই বিষয়টির মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। এদিকে বিকাশরঞ্জনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপির পাল্টা আক্রমণে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। একদিকে বাড়িতে হামলার তদন্ত, অন্যদিকে সেই হামলার প্রতিবাদে করা মন্তব্য ঘিরে পুলিশের তৎপরতা দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, যিনি প্রথমে হামলার অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর সমাজমাধ্যমের পোস্টই কেন এখন এত বড় রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাতের কেন্দ্রে?
বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির তদন্ত কোন পথে এগোবে, কসবা থানার তলবের প্রেক্ষিতে তিনি কী পদক্ষেপ করবেন এবং এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজায় পৌঁছবে কি না সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট, পুলিশের নোটিসের পরেও মন্তব্য প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেননি সিপিএম নেতা। বিতর্কের আগুনে জল ঢালার বদলে তাঁর পাল্টা বক্তব্যে নতুন করে চড়েছে রাজনৈতিক পারদ।














