নিজস্ব প্রতিবেদন, ভাগলপুর: প্রেম কি আর দেশ-কাল, ভাষা কিংবা অর্থের হিসাব বোঝে? ভালবাসার টানে যে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়েও অচেনা দেশে এসে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখা যায়, তারই যেন এক উদাহরণ বিহারের ভাগলপুরের যুবক রাহুল যাদব এবং রাশিয়ার তরুণী জুলির প্রেমকাহিনি।
এক দিকে বিদেশের জীবনযাত্রা, অন্য দিকে বিহারের এক সাধারণ পরিবারের টানাটানির সংসার। দু’জনের জীবনযাপনে বিস্তর ফারাক। কিন্তু সেই ব্যবধানও আটকাতে পারেনি তাঁদের সম্পর্ককে। রাহুলের প্রতি ভালবাসার টানেই রাশিয়া ছেড়ে ভাগলপুরে এসে পৌঁছেছেন জুলি। শুধু তাই নয়, প্রেমিকের অস্থায়ী ঘরেই ভবিষ্যতের সংসার সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
রাশিয়ার মাটিতে শুরু হয়েছিল যে গল্প। জানা গিয়েছে, কাজের সূত্রে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন ভাগলপুরের বাসিন্দা রাহুল যাদব। সেখানেই আলাপ হয় জুলির সঙ্গে। প্রথমে পরিচয়, তার পর বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্বই গড়ায় গভীর প্রেমে। একে অপরকে ভালবেসে ফেললেও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রথম দিকে দুশ্চিন্তা ছিল দু’জনের মনেই।
কারণ, তাঁদের মাঝখানে শুধু হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব নয়, ছিল ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিবেশ এবং আর্থিক অবস্থার বিস্তর ব্যবধান। সেই পার্থক্য কী ভাবে ঘুচবে, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন দুই পরিবারের সদস্যেরাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ের চেয়ে একসঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছাই বড় হয়ে ওঠে রাহুল এবং জুলির কাছে।
পাকা বাড়ির স্বপ্ন নয়, প্রেমিকের কুঁড়েঘরেই সুখ খুঁজছেন জুলি! এই প্রেমকাহিনির সবচেয়ে আলোচিত দিক রাহুলের আর্থিক অবস্থা। ভাগলপুরে রাহুলের থাকার জায়গা বলতে একটি অস্থায়ী বাড়ি। নেই কোনও বিলাসবহুল অট্টালিকা কিংবা বিত্তশালী জীবনের চাকচিক্য। অথচ সেই সাধারণ ঘরই নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানা হিসাবে বেছে নিতে আপত্তি নেই জুলির। দু’দিন আগেই রাহুলের বাড়িতে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ভিনদেশের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে সম্পূর্ণ অন্য সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভালবাসার মানুষটির জন্য।
যেখানে অনেক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা সামাজিক অবস্থানের বিচারে, সেখানে রাহুল-জুলির এই সিদ্ধান্ত যেন অন্য এক বার্তা দিচ্ছে। তাঁদের কাছে বড় বাড়ি কিংবা দামি আসবাবের চেয়ে একসঙ্গে থাকার স্বপ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা, নতুন জীবনের অপেক্ষায় যুগল। জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসেই বিয়ের পরিকল্পনা রয়েছে রাহুল ও জুলির। দুই দেশের দুই মানুষের সম্পর্ককে এ বার সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রাশিয়ার তরুণী কি পারবেন বিহারের এক সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে? ভাষা ও সংস্কৃতির ফারাক পেরিয়ে কেমন হবে তাঁদের দাম্পত্য? সেই সব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দেবে সময়।
তবে আপাতত রাহুল এবং জুলির গল্প মনে করিয়ে দিচ্ছে এক সহজ সত্য ভালবাসা শুধু স্বপ্নের প্রাসাদে বাস করে না। কখনও কখনও মাটির কাছাকাছি থাকা একটি ছোট্ট ঘরও হয়ে উঠতে পারে দু’জন মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা। হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব পেরিয়ে যে সম্পর্কের শুরু, তার নতুন অধ্যায় লেখা হতে চলেছে ভাগলপুরের এক সাধারণ ঘরে।














