নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর ভাবনাকে সামনে রেখে স্কুলশিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী শিক্ষণ-পদ্ধতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে আরও কার্যকর করে তুলতে পাঁচ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করল আইআইটি খড়্গপুর। প্রতিষ্ঠানের Centre for Interdisciplinary and Convergent Technologies (CIDCT)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল ‘স্কুলশিক্ষায় শিক্ষণ-পদ্ধতির রূপান্তর NEP 2020, ডিজিটাল পেডাগজি এবং জেনারেটিভ এআই’।
মূলত উচ্চমাধ্যমিক স্তরের রসায়ন এবং কর্মশিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য এই সক্ষমতা-বৃদ্ধি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে প্রচলিত শিক্ষণ-পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাদান, মূল্যায়নের আধুনিক পদ্ধতি এবং পরীক্ষাগারভিত্তিক শিক্ষণের পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই, কম্পিউটেশনাল থিংকিং, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি, মাইক্রোকন্ট্রোলার, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রযুক্তি, রাস্পবেরি পাই এবং প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষণের মতো বিষয়েও অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নেন।
কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো, পাঠদানকে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি সম্পর্কে নতুন দিশা দেয়।
শুধু তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই কর্মসূচি। অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আইআইটি খড়্গপুরের ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ল্যাবরেটরি এবং নেহরু মিউজিয়াম অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, হাতে-কলমে এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষাকে কী ভাবে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সে সম্পর্কে তাঁরা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস এবং ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে শিক্ষাব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আইআইটি খড়্গপুরের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকদের মতে, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুফলকে শুধু উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াই এই ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। শিক্ষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হলে তা সরাসরি শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এ গুরুত্ব দেওয়া সৃজনশীলতা, দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ধারণাও আরও কার্যকর ভাবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে।
শিক্ষার পরিবর্তন শুধু পাঠ্যবই বা পাঠ্যক্রমের পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কী ভাবে শিক্ষার্থীদের শেখার সঙ্গে যুক্ত করছেন, প্রযুক্তিকে কী ভাবে ব্যবহার করছেন এবং তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছেন। তার উপরও নির্ভর করছে শিক্ষার নতুন দিক। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিসচেতন করে তুলতে আইআইটি খড়্গপুরের এই উদ্যোগ স্কুলশিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।













