নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দুর্গাপুজোর মরসুমে দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিশেষ উদ্যোগ দক্ষিণ-পূর্ব রেলের। উৎসবের সময়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে শালিমার–চেন্নাই বিচ এবং দিল্লি–সাঁতরাগাছি রুটে বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হয়েছে। রেলের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুই রুটে মোট চারটি পৃথক ট্রেন নম্বরে পরিষেবা মিলবে। বিশেষ বিষয় হল, দুই রুটের ট্রেনই খড়্গপুর স্টেশনে থামবে। ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার যাত্রীরা উপকৃত হতে পারেন।

শালিমার থেকে চেন্নাই বিচ, কবে ছাড়বে ট্রেন?
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ০২৮৪১ শালিমার–চেন্নাই বিচ স্পেশাল আগামী ১৫ এবং ২২ অক্টোবর শালিমার স্টেশন থেকে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে রওনা দেবে। ট্রেনটি যাত্রার তৃতীয় দিনে, অর্থাৎ যথাক্রমে ১৭ এবং ২৪ অক্টোবর ভোর ৩টেয় চেন্নাই বিচ স্টেশনে পৌঁছবে। অন্যদিকে, ০২৮৪২ চেন্নাই বিচ–শালিমার স্পেশাল আগামী ১৭ এবং ২৪ অক্টোবর সকাল ৬টায় চেন্নাই বিচ স্টেশন থেকে ছাড়বে। পরের দিন, অর্থাৎ ১৮ এবং ২৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে শালিমারে পৌঁছনোর কথা। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অধীন এই বিশেষ ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজগুলির মধ্যে রয়েছে সাঁতরাগাছি, খড়্গপুর এবং বালেশ্বর।
দিল্লি–সাঁতরাগাছি রুটেও বিশেষ ট্রেন
শুধু দক্ষিণ ভারত নয়, উত্তর ভারতের যাত্রীদের জন্যও রয়েছে সুখবর। ০৪০৯৪ দিল্লি–সাঁতরাগাছি স্পেশাল ১৪ অক্টোবর রাত ১২টা ৩০ মিনিটে (০০:৩০) দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করবে। পরের দিন, ১৫ অক্টোবর সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সাঁতরাগাছিতে পৌঁছনোর কথা। ফেরার পথে ০৪০৯৩ সাঁতরাগাছি–দিল্লি স্পেশাল ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সাঁতরাগাছি থেকে রওনা দেবে। যাত্রার তৃতীয় দিনে, ১৭ অক্টোবর রাত ১২টা ২৫ মিনিটে (০০:২৫) দিল্লি পৌঁছনোর কথা। এই রুটের বিশেষ ট্রেনগুলি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অধীনে ভোজুডি, আদ্রা, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, মেদিনীপুর এবং খড়্গপুর স্টেশনে থামবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
খড়্গপুর ও মেদিনীপুরের যাত্রীদের জন্য বাড়তি সুবিধা
পুজোর সময়ে কর্মসূত্রে ভিন্রাজ্যে থাকা বহু মানুষ বাংলায় ফেরেন। আবার উৎসবের ছুটিতে অনেকে বেড়াতে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই সময়ে দূরপাল্লার ট্রেনে টিকিটের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। সেই পরিস্থিতিতে চেন্নাই ও দিল্লি রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা যাত্রীদের সামনে বাড়তি বিকল্প খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে খড়্গপুর, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর এবং বালেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে স্টপেজ থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হতে পারে।
যাত্রার আগে কী করবেন?
রেলের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী বিশেষ ট্রেনগুলির পরিষেবা নির্দিষ্ট দিনেই পাওয়া যাবে। তাই যাত্রীদের যাত্রার পরিকল্পনা করার আগে ট্রেনের সময়সূচি, স্টপেজ, আসনের প্রাপ্যতা এবং বুকিং সংক্রান্ত তথ্য রেলের সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুসন্ধান পরিষেবা থেকে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পুজোর মরসুমে শালিমার–চেন্নাই বিচ এবং দিল্লি–সাঁতরাগাছি রুটে এই অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবা দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।














