নিজস্ব সংবাদদাতা: গত মাসের ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও বন্যার ক্ষত এখনও শুকোয়নি। বহু পরিবার এখনও খুঁজে ফিরছে নিখোঁজ স্বজনকে। ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর স্মৃতি সামলে ওঠার আগেই ফের প্রকৃতির ভয়াল রূপ দেখল নেপাল। টানা চার দিনের প্রবল বৃষ্টিতে দেশের একাধিক প্রান্তে বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত জনজীবন।
২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাগাতার বৃষ্টিতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। এখনও পর্যন্ত অন্তত ২১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ জন। আহত হয়েছেন ৫ জন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নেপালের National Disaster Risk Reduction and Management Authority (NDRRMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ভূমিধসে। পাহাড় ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। বন্যার জলে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৪ জন। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলির একটি ঘটেছে বাগলুং জেলার নিশিখোলা এলাকায়। রবিবার সকালে আচমকা নেমে আসে বিশাল ধস। মুহূর্তের মধ্যে মাটির নীচে চাপা পড়ে যায় বসতবাড়ি। ওই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে নেপালের একাধিক নদীও। কালীগণ্ডকী নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। কোথাও স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বাড়িঘর, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু ও রাস্তা। মানাংয়ের চামে এলাকায় পাহাড় ধসে মার্সিয়াংদি নদীর গতিপথ আংশিক আটকে গিয়েছে। কিছু এলাকায় কালীগণ্ডকীর প্রবাহও বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।
আর তাতেই নতুন আতঙ্ক। পাহাড়ি ধসে তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধ আচমকা ভেঙে গেলে নীচের জনপদে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসতে পারে বিপুল জলরাশি এই আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে বহু মানুষের। প্রবল বৃষ্টির জেরে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়িরও। বহু বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, আরও বহু বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। বিপজ্জনক এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার বাসিন্দাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
জাজরকোট, মিয়াগদি, সংক্খুবাসভা-সহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ব্যবহার করা হয়েছে হেলিকপ্টার। বহু জায়গায় ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থলপথে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও একাধিক এলাকায় কার্যত ভেঙে পড়েছে।
গত অগাস্টেই ভয়াবহ হড়পা বান ও ধসে তছনছ হয়েছিল নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। কেউ হারিয়েছেন ঘর, কেউ হারিয়েছেন পরিবারের সদস্যকে। অনেকের খোঁজ আজও মেলেনি।
তার মধ্যেই ফের বন্যা, ধস আর মৃত্যুর খবর। পাহাড়ের দিকে তাকালেই এখন আতঙ্ক। নদীর জল বাড়লেই বুক কাঁপছে মানুষের। একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে নেপালের মানুষের একটাই প্রশ্ন আর কতবার প্রকৃতির রোষের সামনে অসহায় হয়ে দাঁড়াতে হবে?














