নিজস্ব প্রতিবেদন: আর মাত্র এক মাসের অপেক্ষা। কুমোরটুলির শিল্পীদের হাতে দ্রুত রূপ পাচ্ছেন উমা, পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়েছে মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা। বাজারেও জমতে শুরু করেছে পুজোর কেনাকাটা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে ঘিরে যখন উন্মাদনার পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই চিন্তা বাড়াচ্ছে আবহাওয়ার সম্ভাব্য মেজাজ। পুজোর দিনগুলিতে ঝড়বৃষ্টি কি আনন্দে জল ঢালবে? সেই আশঙ্কাই এখন ঘোরাফেরা করছে।
অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে দুর্গাপুজো। আর সেই সময় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কলকাতার পাশাপাশি উপকূলবর্তী ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দফায় দফায় বৃষ্টি এবং কোথাও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বেশি নজর ষষ্ঠী থেকে দশমীর আবহাওয়ার দিকে। সম্ভাব্য নিম্নচাপ শক্তি বাড়ালে পুজোর মূল দিনগুলিতেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে দমকা হাওয়ার দাপটও থাকলে সমস্যায় পড়তে পারেন পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে দর্শনার্থীরা।
এমন পরিস্থিতিতে মাথায় হাত পড়তে পারে খোলা মণ্ডপের উদ্যোক্তাদের। আলোকসজ্জা, মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো সব ক্ষেত্রেই বৃষ্টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের চিন্তাও বাড়তে পারে। পুজোর কয়েকটি দিনই বহু ছোট-বড় ব্যবসায়ীর বছরের অন্যতম বড় আয়ের সময়।
তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পুজো এখনও বেশ কিছুটা দূরে এবং এত আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। বঙ্গোপসাগরে কোনও নিম্নচাপ তৈরি হলে তার অবস্থান, শক্তি ও গতিপথের উপরই নির্ভর করবে পুজোর সময় বাংলার আবহাওয়া ঠিক কেমন থাকবে।
তাই একদিকে চলছে মণ্ডপ-প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, অন্যদিকে আকাশের গতিবিধিতেও থাকছে নজর। এখন বাঙালির একটাই প্রার্থনা মায়ের আগমনে যেন অসুর হয়ে না দাঁড়ায় দুর্যোগ!














