দাঁতন: দাদুর পাশেই নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিল ১১ বছরের নাতি। গভীর রাতের সেই ঘুম যে আর ভাঙবে না, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের কেউ। রাতের অন্ধকারে আচমকা অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্র। ডান হাতে সাপের কামড়ের মতো দাগ দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হল না। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দাঁতনের খণ্ডরুই গ্রামে।
জানা গিয়েছে, শিশুটির বাবা-মা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। সেই কারণে ছোটবেলা থেকেই মামার বাড়িতে দাদুর কাছেই থাকত ১১ বছরের ওই নাতি। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দাদুর পাশে শুয়ে ঘুমিয়েছিল সে।
গভীর রাতে আচমকাই যন্ত্রণায় কাতর হয়ে চিৎকার করে ওঠে শিশুটি। নাতির চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় দাদুর। কী হয়েছে জানতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, শিশুটির ডান হাতে সাপের কামড়ের মতো চিহ্ন রয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় পরিবারের দৌড়ঝাঁপ। কোনওরকম সময় নষ্ট না করে শিশুটিকে দ্রুত খণ্ডরুই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা চিকিৎসা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই প্রাণ হারায় পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্র।
তবে সত্যিই সাপের কামড়েই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খড়্গপুরে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
বাবা-মা কর্মসূত্রে দূরে, আর দাদুই ছিল ছোট্ট শিশুটির প্রতিদিনের সঙ্গী ও ভরসা। সেই দাদুর পাশেই ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। শোকস্তব্ধ খণ্ডরুই গ্রামের বাসিন্দারাও।
এক রাতেই যেন থেমে গেল একটি ছোট্ট জীবনের সমস্ত স্বপ্ন। স্কুলব্যাগ, বই-খাতা, খেলার সঙ্গী সবকিছুকে পিছনে ফেলে চলে গেল ১১ বছরের শিশুটি। ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।











