নিজস্ব সংবাদদাতা, রামনগর: ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজন হারানো মৎস্যজীবী পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর-১ ব্লকের বিডিও অফিসে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের ঘোষণাও কার্যকর করার আশ্বাস দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর থেকে ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে রওনা দেয় ‘জয় মা কালী’ নামে একটি ট্রলার। তিন দিন পর ট্রলারটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ১১ জুলাই সুন্দরবন উপকূলে উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান মেলে। এখনও পর্যন্ত ১১ জন মৎস্যজীবীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, আর ৪ জন এখনও নিখোঁজ। মৃতদেহগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্য সরকারের ঘোষণামাফিক, নিহত প্রত্যেক মৎস্যজীবীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে শোকাহত পরিবারগুলির হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়ে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন। রামনগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা শঙ্করপুর ফিসারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়ক রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার পর সরকারের এই সহায়তা শোকাহত পরিবারগুলিকে কিছুটা হলেও মানসিক ভরসা ও আর্থিক স্বস্তি দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রামনগর-১ বিডিও অফিস চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিক মোতায়েন করা হয়। সরকারি সহায়তার চেক ও পরিবারের একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের আশ্বাস পেয়ে স্বজনহারা মৎস্যজীবী পরিবারগুলির মুখে কিছুটা হলেও স্বস্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়, যদিও প্রিয়জন হারানোর বেদনা আজও তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
সমুদ্র কেড়ে নিয়েছে আপনজন, সহায়তার হাত বাড়াল রাজ্য সরকার
Published on: July 26, 2026

---Advertisement---










