নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টানা বর্ষণে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে কেলেঘাই নদী। নদীর জলস্তর বাড়তেই জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। ফলে পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন কোমরসমান জল পেরিয়ে কিংবা নৌকায় চেপে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষা এলেই এই দুর্ভোগ যেন এলাকাবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবং ব্লকের কোলন্দা, রাউতরাবাড়ি, বিলকুয়া, বাঙালদাড়ি-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ব্লকের দাড়িপাটনা, হামিরপুর, গোকুলপুর, সিলমাবাদ ও পাথরঘাটা এলাকার মানুষও একই সমস্যায় জর্জরিত। গত সোমবার থেকে দুই মেদিনীপুর জেলাজুড়ে টানা বৃষ্টির জেরে কেলেঘাই নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তার ফলেই বেহুলার খেয়াঘাট এবং বতুয়া বাজার সংলগ্ন বাঁশের সাঁকো সম্পূর্ণ জলের নিচে চলে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে নিত্যদিনের ভোগান্তি। কেউ মোটরবাইক ঠেলে জল পার করছেন, কেউ কোমরসমান জল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছচ্ছেন। অনেকেই নিরাপদ উপায় হিসেবে নৌকার উপর নির্ভর করছেন। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগীদেরও চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার সময় কেলেঘাই নদীর জল বাড়লেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই জেলার সংযোগের সবচেয়ে সহজ পথ এই খেয়াঘাট। কেলেঘাই সেতু থাকলেও সেখানে পৌঁছতে ঘুরপথে প্রায় ২০ কিলোমিটার যেতে হয়, যেখানে নৌপথে মাত্র ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। তাই বাধ্য হয়েই নৌকাকে ভরসা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে নৌকা পারাপারের সময় একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তবুও স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ইতিমধ্যেই সবং ও পটাশপুর বিধানসভার দুই বিধায়কের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, দুই জেলার মধ্যে একটি স্থায়ী সেতু বা বিকল্প নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক, যাতে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না হয়। অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। কয়েকদিন আগে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার নেতৃত্বে সবং থানার উদ্যোগে বিষ্ণুপুর এলাকার প্রায় ৭০টি জলবন্দি পরিবারের হাতে নৌকায় করে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ সুপার নিজেও নৌকায় চেপে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতির খোঁজ নেন। স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কেলেঘাই নদীর জলস্তর ও বন্যা পরিস্থিতির উপর প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। প্রয়োজনে আরও ত্রাণ ও উদ্ধার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন-প্রতি বছর একই দুর্ভোগ আর কতদিন? কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান?
কেলেঘাইয়ের জলে বিপদসংকেত, ঝুঁকিতে নিত্যযাত্রীরা
Published on: July 26, 2026

---Advertisement---










