প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

বর্ধমানে জঙ্গি ‘আস্তানা’! ধৃতের মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রীর লোকেশন, তদন্তে বিস্ফোরক মোড়

Published on: August 1, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বসেই কি চলছিল বড়সড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের ছক? বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ থেকে জঙ্গি সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর সামনে এসেছে এমনই বিস্ফোরক তথ্য। ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সূত্রে দাবি, তার সঙ্গে জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে। এমনকি পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

কিন্তু গ্রেফতারির পর যে তথ্য তদন্তকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা আরও গুরুতর। ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি, লোকেশন এবং তাঁকে অনুসরণ সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি STF-এর। আর সেখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেন মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল? শুধু তথ্য সংগ্রহ, নাকি এর পিছনে ছিল কোনও বড়সড় হামলার ছক? তদন্তকারীদের সন্দেহ, কাশ্মীরের জঙ্গি শেহজাদ ভাটের সঙ্গে হামিদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। ধৃতের মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ টাউনশিপে অভিযান চালায় STF। সেখান থেকেই হামিদকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটেও কিছুদিন অবস্থান করেছিল সে। ফলে কলকাতা ও বর্ধমান দুই জায়গাতেই তার গতিবিধি নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারে এমন তথ্য কীভাবে একজন জঙ্গি সন্দেহভাজনের হাতে পৌঁছল এখন সেটাই বড় রহস্য। তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রীর উপর নজরদারি কেন? কে নির্দেশ দিয়েছিল? কার কাছে সেই তথ্য পাঠানো হচ্ছিল? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কোনও হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কি না?

যদিও এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার কোনও পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। কিন্তু ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে STF। রাজ্যের একটি জনবহুল আবাসনে দিনের পর দিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি অবস্থান করছিল। এই তথ্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গকে ব্যবহার করে কোনও বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ধৃতের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে আরও কী তথ্য বেরিয়ে আসে, কার কার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না সবকিছুই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

হামিদকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নেটওয়ার্কের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনোর চেষ্টা করবে STF। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার, আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগের অভিযোগ এবং তার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারের দাবি সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে নজরদারি, নাকি নেপথ্যে ছিল আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র?

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now