নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগড়: টানা বৃষ্টি ও কেলেঘাই নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বুধবার নারায়ণগড় বিধানসভার খুড়শী অঞ্চলের দুড়িয়া ও পাহাড়পুর মৌজা পরিদর্শন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা ও নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি।
এদিন নৌকায় চেপে কেলেঘাই নদী এবং নদী সংলগ্ন জলমগ্ন এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন জেলাশাসক ও বিধায়ক। বন্যার জেরে এলাকার পরিস্থিতি, জলবন্দি মানুষের দুর্ভোগ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। জলবন্দি মানুষের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়।
জেলাশাসক ও বিধায়কের সঙ্গে এদিনের পরিদর্শনে ছিলেন এসডিও জ্যোতি ঘোষ, বিডিও তাপস বিশ্বাস, নারায়ণগড় থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক গোবর্ধন সাউ-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। বন্যা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ত্রাণ ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও দেখা দিয়েছে। কেলেঘাই নদী ও এলাকার খালগুলির সংস্কার নিয়ে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়াকে নিশানা করেন বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি। তাঁর অভিযোগ, সেচ দফতরের দায়িত্বে থাকার সময় নদী ও খালগুলি যথাযথভাবে খনন করা হলে নারায়ণগড়ে বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
বিধায়ক বলেন, “সেচ দফতরের মন্ত্রী আমাদের পাশের ব্লকের মানস ভূঁইয়া ছিলেন। কিন্তু আমরা কোনও কাজ পাইনি। সেই সময় যদি নদী খনন করা হতো, খালগুলি ঠিকঠাক খনন করা হতো, তাহলে নারায়ণগড় বিধানসভায় এই বন্যা দেখতে হতো না।” আগামী বছর কেলেঘাই নদী এবং নারায়ণগড়ের সমস্ত খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। বিধায়কের কথায়, “আমরা সামনের বছর সমস্ত খাল এবং কেলেঘাই খননের কাজ করব।” কেলেঘাই নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনের তরফে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।











