প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

EXCLUSIVE: প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, সবংয়ে ফের পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ! উত্তপ্ত ৮ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত

Published on: August 24, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: দুর্নীতির অভিযোগে আগেই পঞ্চায়েত অফিসে তালা, এবার ফের বিক্ষোভ! সপ্তাহের প্রথম দিনেই পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ৮ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এলাকার মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে পথে নামলেন বিজেপির একাংশ কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকে ঘিরে চড়ল রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ৮ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুকুমার বারিকের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্ত এবং প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই আগেও পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এদিন ফের একই দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।

শুধু দুর্নীতির অভিযোগই নয়, প্রধানের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েতে না আসার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন প্রধান যদি পঞ্চায়েতেই না আসেন, তাহলে সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাবেন কোথা থেকে? বিভিন্ন সরকারি নথি, সার্টিফিকেট ও পরিষেবা পেতে সমস্যার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সবং থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি পঞ্চায়েত অফিস খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

তবে বিক্ষোভের মাঝেই সামনে এসেছে পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ। প্রধান সুকুমার বারিকের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক অমল পণ্ডার অনুগামী বিজেপি কর্মীরাই পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে তাঁকে ঢুকতে বাধা দিয়েছেন। সুকুমার বারিকের সাফ কথা, “দুর্নীতি থাকলে তদন্ত করুন। যে শাস্তি হবে, মাথা পেতে নেব।” তাঁর প্রশ্ন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ যদি সত্যিই থাকে, তাহলে তদন্ত করা হচ্ছে না কেন? তদন্ত হলে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও দাবি করেন প্রধান।

অফিসে যেতে না পারলেও বাড়ি থেকেই সাধারণ মানুষকে সার্টিফিকেট-সহ বিভিন্ন পরিষেবা দিয়ে আসছেন বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি এদিনের বিক্ষোভে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি সবং থানার পুলিশ এবং ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলে দাবি সুকুমার বারিকের।

অন্যদিকে, গোটা ঘটনায় নিজের নাম জড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিধায়ক অমল পণ্ডা। তাঁর প্রশ্ন, “কে কোথায় বিক্ষোভ করল, তার দায় আমার কেন?” তিনি সাধারণ মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং মানুষের কাজ করতেই এসেছেন বলে দাবি করেন। বিধায়কের আরও অভিযোগ, একাধিক জায়গায় তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদেরও বিক্ষোভের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাহলে পুলিশ-প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

একদিকে প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে প্রধানের পাল্টা দাবি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। তার উপর পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে সবং ৮ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এখন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু।অভিযোগের সত্যতা কতটা? দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত হবে কি? আর পঞ্চায়েত পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভই বা মিটবে কবে? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবং।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now