নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলদা: রেললাইনের ধারে ক্ষতবিক্ষত দেহ। প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই খুলেছে রহস্যের পর্দা। পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনা নয় পুরনো শত্রুতার জেরেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। আর খুনের পর দেহ রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে গোটা ঘটনাকে দুর্ঘটনার চেহারা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার সাঞ্যাপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধারের পরই তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে রেল দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সামনে এলেও তদন্তকারীদের নজরে আসে বেশ কিছু অসঙ্গতি। সেখান থেকেই শুরু হয় রহস্যের জট খোলার পালা। পুজোর কেনাকাটায় নতুন চমক!
পুলিশের দাবি, সালাজপুরের কাছে আঁচবাড় এলাকায় ওই ব্যক্তিকে কুড়ুলের বাঁট দিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আঘাতের জেরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর প্রমাণ লোপাট এবং ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরাতেই দেহটি রেললাইনের ধারে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান।
কিন্তু খুনের ছক বেশিদিন চাপা থাকেনি। মৃতের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চাবি তদন্তে কার্যত ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে ওঠে। সেই চাবির সূত্র ধরে তদন্তের জাল গুটোতে শুরু করে পুলিশ। একের পর এক তথ্য যাচাইয়ের পর অবশেষে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেলদা থানা এলাকার এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে এখানেই তদন্তের শেষ নয়। খুনের নেপথ্যে ঠিক কী কারণে পুরনো শত্রুতার সূত্র তৈরি হয়েছিল, ঘটনায় আরও কারা জড়িত এবং রেললাইনের ধারে দেহ ফেলার পরিকল্পনায় কারা ছিল। সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে চলছে তল্লাশি। রেল দুর্ঘটনার ধোঁয়াশা সরিয়ে পুলিশের তদন্তে এখন সামনে খুনের অভিযোগ। আর সেই তদন্তে একটি চাবিই যেন খুলে দিল পুরো রহস্যের তালা।











