ডেবরা: দুপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকা বিকট শব্দ! কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল গোটা মাটির বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেলেন বাড়ির দুই বাসিন্দা। প্রতিবেশীদের তৎপরতায় কোনওমতে প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হয়েছেন দু’জন। শনিবারের এই ভয়াবহ ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর নাগাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে বাড়িটির মাটির দেওয়াল ও চাল। বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। চোখের সামনে তখন শুধুই মাটির স্তূপ। সেই স্তূপের নিচেই আটকে ছিলেন দুই বাসিন্দা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয়রা। হাত লাগিয়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে শেষপর্যন্ত দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের স্থানীয় এক গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
প্রাণে বাঁচলেন, কিন্তু মাথার উপর ছাদ রইল না!দুর্ঘটনার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বড় বিপর্যয়। একেবারে চোখের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। ঘরের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী চাপা পড়ে রয়েছে মাটির নিচে।
শুধু ঘর নয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। ফলে একদিকে আহত দুই সদস্যের চিকিৎসার চিন্তা, অন্যদিকে মাথার উপর ছাদ হারানোর যন্ত্রণা দুইয়ের মাঝে কার্যত দিশেহারা পরিবারটি।
স্থানীয়দের কথায়, আচমকা এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কীভাবে ধসে পড়ল বাড়িটি, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এক মুহূর্তের ধসেই ছাদহীন একটি পরিবার রামচন্দ্রপুরের এই ঘটনায় এখন প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা।











