নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যক্ষ্মা বা টিবি নিয়ে ভয় নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার এই বার্তাকে সামনে রেখে টিবি আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াল Rashmi গ্রুপ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ‘জন ভাগিদারি’ কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রবিবার খড়্গপুরের একটি হোটেলে সংস্থার CSR উদ্যোগে আয়োজিত হয় বিশেষ মানবিক কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে টিবি আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীর ঝুড়ি। পাশাপাশি রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং রোগমুক্তির পথে তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কৃষি বিপণন এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, মেদিনীপুরের বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুছাইত, নারায়ণগড়ের বিধায়ক রামপ্রসাদ গিরি, খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. বুশারা বানু, পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. সৌম্যশঙ্কর সারঙ্গী এবং খড়্গপুরের মহকুমাশাসক জ্যোতি ঘোষ-সহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিক।
‘নিক্শয় মিত্র, জন ভাগিদারি’ কর্মসূচির আওতায় Rashmi গ্রুপের প্রোমোটার সঞ্জীব কুমার পাটওয়ারি ও সঞ্জয় কুমার পাটওয়ারির উপস্থিতিতে ১০টি টিবি আক্রান্ত পরিবারের হাতে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগেও নিক্শয় মিত্র কর্মসূচির আওতায় ২০০ জন টিবি রোগীকে দত্তক নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে টিবি প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, নিয়মিত চিকিৎসা এবং রোগীদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। CMOH ড. সৌম্যশঙ্কর সারঙ্গী টিবি চিকিৎসার পরিকাঠামো, বিশেষ এক্স-রে পরিষেবা এবং সময়মতো রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে টিবি থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
রশ্মি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ভাস্কর চৌধুরী বলেন, ‘জন ভাগিদারি’ শুধু সরকারি উদ্যোগে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণেই টিবির বিরুদ্ধে লড়াই আরও শক্তিশালী হবে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো রশ্মি গ্রুপের সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারাবাহিক অংশ। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উঠে এল এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা টিবি রোগীর প্রতি দূরত্ব নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত। সচেতনতা, চিকিৎসা ও পুষ্টির সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে টিবিমুক্ত সমাজ।











