প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

ভিডিয়ো বিতর্কের আবহেই বদলি খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানো

Published on: September 15, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা: খড়গপুর এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে বদলি করল রাজ্য সরকার। তাঁর পরিবর্তে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব নিতে চলেছেন পার্থ ঘোষ। ২০২১ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক বুশরা বানোকে রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডান্ট পদে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক মহল থেকে এই বদলিকে রুটিন বদলি হিসেবেই দেখা হলেও, সময়ের কারণে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। কারণ, সম্প্রতি বুশরা বানোর একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিয়ো ঘিরেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।

ভিডিয়োয় পুলিশের উর্দিতে দেখা যায় বুশরা বানোকে। সেখানে তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং অ্যাকাডেমির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠান কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করে, সে বিষয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হিসেবে নিজের প্রস্তুতির সময়ে সেখান থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তবে বিতর্ক তৈরি হয় ভিডিয়োর মূল বক্তব্য নিয়ে নয়, বরং সেখানে ব্যবহৃত কয়েকটি সম্ভাষণ ও শব্দকে কেন্দ্র করে। ভিডিয়োর শুরুতে ‘আস্সালামু আলাইকুম’ এবং বক্তব্যের মধ্যে ‘ইনশাল্লাহ’, শেষে ‘জাজ়াকাল্লাহ’-র মতো শব্দ ব্যবহার করেন বুশরা। এরপরই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও পাল্টা প্রশ্ন।

‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন ভিডিয়োর অংশ নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বুশরার শব্দচয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পুলিশের উর্দি পরে এবং সরকারি পদ উল্লেখ করে একজন আধিকারিকের এই ধরনের শব্দ ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় তাদের তরফে। পাশাপাশি ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম্’-এর মতো শব্দ কেন তাঁর বক্তব্যে নেই, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমের একাংশের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির সম্ভাষণ বা ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক শব্দ ব্যবহারের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের যোগ টানা উচিত নয়। ফলে বিষয়টি ঘিরে দুই ধরনের মতই সামনে এসেছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই বুশরা বানোর বদলির নির্দেশ সামনে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে। তবে তাঁর বদলির সঙ্গে ওই ভিডিয়ো বিতর্কের কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রশাসনের তরফে এটিকে স্বাভাবিক বদলির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, একদিকে প্রশাসনিক রদবদল, অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে চলতে থাকা বিতর্ক দুইয়ের জেরে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বদলি এখন জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যজুড়েই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now