নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়গপুর: পুলিশের উর্দিতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ একটি ভিডিওতে এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন IPS আধিকারিক বুশরা বানো। আর সেই ভিডিও ঘিরে বিতর্কের আবহ কাটতে না কাটতেই খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে তাঁর বদলি। ঘটনাপ্রবাহ সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন প্রশ্নের ঝড় একজন মুসলিম পুলিশ আধিকারিকের ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারই কি তাঁর বিরুদ্ধে গেল? নাকি বদলির সঙ্গে ওই ভিডিওর কোনও সম্পর্কই নেই?
বুশরা বানো খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষাজীবন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। সেই বক্তব্যের শুরু ও শেষের দিকে ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েই শুরু হয় আপত্তি ও বিতর্ক।
এরপর বিভিন্ন মহলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও ওঠে। প্রশ্ন তোলা হয়, পুলিশের উর্দিতে থাকা একজন সরকারি আধিকারিকের প্রকাশ্য বক্তব্যে ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত। আবার পাল্টা যুক্তিও উঠে আসে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা কি আদৌ কোনও অপরাধ? একজন আধিকারিকের ব্যক্তিগত ভাষা বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে এক করে দেখা কতটা সঙ্গত?
এই বিতর্কের মধ্যেই আসে বদলির নির্দেশ। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে বুশরা বানোকে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হয়। আর সেখানেই আরও ঘনীভূত হয়েছে জল্পনা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বদলির সিদ্ধান্ত কি আগে থেকেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল? নাকি ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রভাব পড়েছিল সিদ্ধান্তে? সরকারি ভাবে বদলিকে রুটিন প্রশাসনিক রদবদল হিসেবেই দেখানো হয়েছে। ফলে ভিডিও-বিতর্কের সঙ্গে বদলির সরাসরি সম্পর্কের কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
তবুও প্রশ্ন থামছে না। একজন মুসলিম IPS আধিকারিক ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললে তা কি বিতর্কের কারণ হওয়া উচিত? ‘ইনশাআল্লাহ’ বা ‘জাজাকাল্লাহ’ উচ্চারণ কি তাঁর পেশাগত নিরপেক্ষতার মাপকাঠি হতে পারে? নাকি একই সময়ে ঘটে যাওয়া দুই ঘটনাকে জুড়ে অযথাই বিতর্ক তৈরি হচ্ছে? এখন উত্তর অজানা। কিন্তু বুশরা বানোর বদলি যে শুধুই প্রশাসনিক নির্দেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ধর্মীয় পরিচয়, সরকারি নিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সম্ভাষণের সীমা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তা স্পষ্ট। ভিডিও-বিতর্কের পর বদলি সময়টা কি নিছক কাকতাল, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? আপাতত সেই উত্তরই খুঁজছে সোশ্যাল মিডিয়া।











