নিজস্ব সংবাদদাতা, গড়বেতা: চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও থামেনি। তার মধ্যেই ফের চাঞ্চল্য পশ্চিম মেদিনীপুরে। এ বার গড়বেতার আমলাগোড়া তিন মাথার মোড়ে বহু পুরনো লেনিনের মূর্তির মাথা ভেঙে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএম ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে আমলাগোড়া তিন মাথার মোড়ে থাকা লেনিনের মূর্তিটি ভাঙা অবস্থায় নজরে আসে। অভিযোগ, মূর্তির মাথার অংশ ভেঙে নিয়ে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ঘটনায় সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। দলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পালের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় গড়বেতা ও শালবনি এলাকায় একাধিক সিপিএম কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতাতেই আমলাগোড়ার লেনিন মূর্তিও ভাঙা হয়েছে। বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এর পিছনে রয়েছে বলে অভিযোগ বাম নেতৃত্বের।
যদিও সিপিএমের সেই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন গড়বেতার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ লোধা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি বর্তমানে এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্যস্ত এবং মূর্তি ভাঙার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাঁর দাবি, লেনিনের বিরোধী কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে; এমনকি সিপিএমের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সম্ভাবনার কথাও তুলেছেন তিনি। তবে তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।
আমলাগোড়ার এই লেনিন মূর্তিটির সঙ্গে এলাকার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা তৎকালীন বাম নেতা সুকুমার সেনগুপ্ত মূর্তিটির উদ্বোধন করেছিলেন। চার দশক ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মূর্তির মাথা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এর আগে চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএমের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাতেও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল সিপিএম, যদিও বিজেপি তা অস্বীকার করে পাল্টা বামেদেরই দায়ী করেছিল।
একদিকে একের পর এক হামলার অভিযোগ তুলে সরব বামেরা, অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছে বিজেপি। এবার আমলাগোড়ায় মাথাহীন লেনিনের মূর্তি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন কারা ভাঙল চার দশকের পুরনো মূর্তি? রাজনৈতিক সংঘাত, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ? ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযুক্তদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার দিকেই এখন নজর।











