প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

‘টানাটানিতে ঘাসফুলই উপড়ে ফেলল কমিশন’, তৃণমূলের প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হতেই কটাক্ষ দিলীপের

Published on: September 18, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ‘ফ্রিজ’ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। দলের নেতৃত্ব ও প্রতীকের দাবি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীকের বিকল্প জমা দিতে বলেছে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, তাঁরা আগেই এই প্রতীক বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমরা আগে থেকেই বলেছিলাম, এটা বন্ধ করা উচিত। এই প্রতীক লুটের প্রতীক।” তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক নিয়ে চলা টানাপোড়েনকে নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, “টানাটানিতে এখন নির্বাচন কমিশন ঘাসফুলই উপড়ে ফেলেছে। দম থাকলে আলাদা আলাদা প্রতীক নিয়ে লড়ুক, তাহলেই দেখা যাবে কার কত দম আছে।”

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা ও ঋতব্রত দুই শিবিরকেই ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে তিনটি করে বিকল্প নাম ও প্রতীক জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে স্থগিতাদেশ রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা সবাইকে মানতে হবে।” একই সঙ্গে তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করে তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর ভাষায়, “তৃণমূল এখন নির্মূল। আগামী দিনে তৃণমূলও চলে যাবে, ঘাসও চলে যাবে।” এই মন্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণভাবেই দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক বক্তব্য ও মূল্যায়ন।

এর পাশাপাশি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষকে থানায় নোটিস পাঠানোর ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, জননেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কথাবার্তা এবং আচরণের একটি সীমা থাকা উচিত। নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সমাজের সামনে ভালো বার্তা দেয় না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “জননেতা, জনপ্রতিনিধি তাঁদের কথাবার্তা ও ব্যবহারের একটা সীমা থাকা দরকার। নিজেদের মধ্যে এই ধরনের কথা চালাচালি হলে সমাজের কাছে সেটা ঠিক বার্তা যায় না। নিজেদের ইমেজ নিজেরাই খারাপ করছেন।”

তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাংলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরম্পরাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এই ধরনের আচরণ। দিলীপের কথায়, “এটা আমাদের পরম্পরা ও সংস্কৃতির বিরোধী। এমন একটা কালচার তৈরি হয়েছে, যা ভদ্রলোকের কালচার নয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশকে এটা অনেকটাই কলুষিত করেছে। এই ধরনের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।”

একদিকে তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে দলের নেতাদের ঘিরে প্রকাশ্য বিতর্ক এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে নতুন করে চড়েছে রাজনৈতিক তরজা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now