নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ব্যাগেজ স্ক্যানারে ধরা পড়ল সন্দেহ। আর সেই সন্দেহের সূত্র ধরেই সামনে এল বিপুল অঙ্কের নগদ! খড়্গপুর রেলস্টেশনে ‘অপারেশন সতর্ক’-এর আওতায় তল্লাশি চালিয়ে ৬০ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৪০ টাকা উদ্ধার করল রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF)। এত বিপুল নগদ সঙ্গে থাকলেও প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারায় অন্ধ্রপ্রদেশের এক ব্যক্তিকে নগদ-সহ আয়কর দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে RPF সূত্রে দাবি।
ঘটনাটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর। খড়্গপুর স্টেশনের উত্তর দিকের নিউ ফুট ওভারব্রিজে বসানো ব্যাগেজ স্ক্যানারে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছিলেন RPF কর্মীরা। সেই সময় হেড কনস্টেবল মনোজ কুমারের নজরে আসে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ। স্ক্যানিংয়ের পর ব্যাগে বিপুল পরিমাণ নগদ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
ব্যাগটি ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের রাজামুন্দ্রির বাসিন্দা ৫৩ বছরের চুক্কা কিশোর কুমারের কাছে। RPF-এর দাবি, টাকার উৎস বা বহনের কারণ সম্পর্কে বৈধ নথি কিংবা সন্তোষজনক হিসাব তিনি দেখাতে পারেননি। এরপর তাঁকে খড়্গপুর RPF পোস্টে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুরু হয় বিস্তারিত যাচাই।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে খড়্গপুর GRP-কে জানানো হয়। তাদের পরামর্শে বিষয়টি আয়কর দপ্তরের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার ডিরেক্টরেট অব ইনকাম ট্যাক্স (ইনভেস্টিগেশন)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে খবর দেয় RPF।
এরপর আয়কর দপ্তরের ইনস্পেক্টর অমিত কুমার খড়্গপুর RPF পোস্টে পৌঁছন। RPF ও আয়কর দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করে সিল করা ব্যাগ খোলা হয়। কারেন্সি কাউন্টিং মেশিনে নোট গুনতেই বেরিয়ে আসে চমকে দেওয়া অঙ্ক ₹৬০,৫৫,৪৪০।
বিভিন্ন মূল্যের নোটে ভর্তি ওই ব্যাগের টাকা পরে যথাযথ নথিপত্র ও স্বীকৃতিপত্রের মাধ্যমে আয়কর দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও আয়কর দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে RPF সূত্রে খবর।
এত বিপুল নগদ কোথা থেকে এল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, টাকার সঙ্গে কোনও ব্যবসায়িক বা অন্য আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না এবার সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবে আয়কর দপ্তর।
খড়্গপুর স্টেশনের মতো ব্যস্ত রেল জংশনে লাগাতার নজরদারির মধ্যেই এই বিপুল নগদ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে রেলপথ কি তবে নথিহীন বিপুল অঙ্কের টাকা পরিবহণের সহজ রাস্তা হয়ে উঠছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তের নজর টাকার উৎস ও গন্তব্যে।











