নিজস্ব সংবাদদাতা, পিংলা: রবিবার দুপুরে সাধারণ সভা চলাকালীন সিপিআইএমের এরিয়া কমিটি অফিসে আচমকা হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার জলচক। লাঠি-বাটাম হাতে একদল দুষ্কৃতী অফিসে চড়াও হয়ে বাম কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। ভাঙচুর করা হয় একাধিক মোটরবাইকও। ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকজন সিপিআইএম কর্মী। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপির দিকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা CITU সম্পাদক গোপাল প্রামাণিকের অভিযোগ, রবিবার দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ সবং বিধানসভা এলাকার জলচক সিপিআইএম এরিয়া কমিটি অফিসে দলের সাধারণ সভা চলছিল। সেই সময় আচমকাই লাঠি-বাটাম হাতে একদল দুষ্কৃতী সেখানে চড়াও হয়। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা বিজেপি-আশ্রিত।
অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সভায় উপস্থিত সিপিআইএম কর্মীদের উপর শুরু হয় মারধর। অফিসের বাইরে থাকা একাধিক মোটরবাইকও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় কয়েকজন বাম কর্মী আহত হন। তাঁদের পিংলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
দিনের বেলায় রাজনৈতিক দলের অফিসে সভা চলাকালীন এমন হামলার অভিযোগ সামনে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পিংলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তবে বিজেপির দাবি একেবারেই অন্য। বিজেপির সবং ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি বিকাশ দাস অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মী যুক্ত নন। তাঁর দাবি, সিপিআইএমের পার্টি অফিসের সামনে রাস্তায় মোটরবাইক রেখে সভা চলছিল। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গন্ডগোল বাধে। সেই ঘটনাকেই বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
একদিকে সিপিআইএমের ‘পরিকল্পিত হামলা’র অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির দাবি ‘স্থানীয় বিবাদ’ জলচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কারা হামলায় জড়িত, ঠিক কী কারণে গোলমাল এবং মোটরবাইক ভাঙচুরের অভিযোগ কতটা সত্য এখন পুলিশি তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।











