নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: রাতের অন্ধকারে বৃদ্ধের রহস্যমৃত্যু। পরিবারের দাবি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা, কিন্তু সেই দাবি ঘিরেই উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সরাসরি অভিযোগ বৃদ্ধকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে, আর অভিযোগের তির মৃতের নিজের ছেলের দিকেই। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের দেভোগ অঞ্চলের ভিকনীবাটিটাকী এলাকায়।
মৃতের নাম সুকুমার ভট্টাচার্য (৭১)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সংসার ছিল তাঁর। পুজো-অর্চনা করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, সুকুমারবাবুর ছেলে চন্দন এলাকায় ‘কামাক্ষা তান্ত্রিক’ নামে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে মদ্যপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের অভিযোগও তুলেছেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, নেশার টাকার জন্য বাবার সঙ্গে প্রায়ই অশান্তিতে জড়াত চন্দন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ এখনও পুলিশিভাবে প্রমাণিত নয়।
অভিযোগ, বিশ্বকর্মা পুজোর পর বাড়ি ফিরে ফের বাবার কাছে টাকা চেয়েছিল চন্দন। সেই টাকা চাওয়া ঘিরে বাবা-ছেলের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। কয়েকদিন ধরেই সেই অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। রবিবার রাতেও বাবা, মা ও ছেলের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাঁটি হয় বলে অভিযোগ। এরপরই ঘটে রহস্যজনক মৃত্যু। পরিবারের তরফে জানানো হয়, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন সুকুমারবাবু। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন যদি গভীর রাতে বৃদ্ধ আত্মহত্যা করে থাকেন, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হল না কেন? কেন গোটা ঘটনা ঘিরে এত গোপনীয়তা? এখান থেকেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশ আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সুকুমার ভট্টাচার্যকে গলা টিপে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। খবর পেয়ে সবং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। মৃতের ছেলে চন্দনকে পুলিশের তরফে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এখন গোটা ঘটনার রহস্যভেদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। বৃদ্ধের মৃত্যু সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ। রাতের ঝগড়া, তারপর বৃদ্ধের মৃত্যু, সঙ্গে স্থানীয়দের খুনের অভিযোগ সব মিলিয়ে ভিকনীবাটিটাকী এখন একটাই প্রশ্নে সরগরম! সুকুমার ভট্টাচার্যের মৃত্যুর আসল রহস্য কী?











