নিজস্ব সংবাদদাতা, মহেশতলা: যে বাবার কাছে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই বাবার বিরুদ্ধেই উঠল ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বাবাকে। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, সেই নির্যাতনের জেরেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে কিশোরী এবং শেষ পর্যন্ত সন্তানের জন্ম দেয় সে। ঘটনাটি সামনে আসতেই কার্যত স্তম্ভিত মহেশতলা পুরসভার বেগর খাল এলাকার বাসিন্দারা।
জানা গিয়েছে, শনিবার আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। পরিবারের লোকজন তাকে বেহালার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা। ওই দিনই সন্তানের জন্ম দেয় কিশোরী। বর্তমানে মা ও সদ্যোজাত দু’জনেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সন্তানের জন্মের পরই সামনে আসে আরও ভয়াবহ অভিযোগ। চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নাবালিকা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তার নিজের বাবাই বাড়িতে একা থাকার সুযোগে তাকে যৌন নির্যাতন করতেন। ভয়েই কাউকে কিছু বলতে পারেনি সে।
নাবালিকার বক্তব্য শোনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মহেশতলা থানায় খবর দেয়। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। রবিবার অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে।সোমবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে অভিযুক্তের স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর নিজের মা ও দুই সন্তানকে নিয়েই থাকতেন ওই ব্যক্তি। ফলে এতদিন ধরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে থাকল এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নজরে কেন তা এল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীদের একাংশের মুখে ঘুরছে একটাই কথা ‘রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তবে নিরাপদ আশ্রয় কোথায়?’ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নাবালিকার সুরক্ষা ও গোপনীয়তার স্বার্থে তার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে।











