নিজস্ব সংবাদদাতা, ডেবরা: প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে নার্সিংহোমে পৌঁছতেই সামনে এল বয়সের তথ্য। প্রসূতি এখনও নাবালিকা! পরিস্থিতি গুরুতর, মা ও গর্ভস্থ শিশুর প্রাণ বাঁচাতে জরুরি সিজার প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসা শুরু করার পাশাপাশি আইনি দায়িত্বও এড়াল না ডেবরার একটি বেসরকারি নার্সিংহোম। অস্ত্রোপচারের আগেই পুলিশকে জানানো হল পুরো বিষয়টি। পরে নাবালিকা বিবাহের অভিযোগে শুরু হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া।
ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার ‘রাই নার্সিং হোম’-এর। জানা গিয়েছে, সবং এলাকার ওই নাবালিকাকে তীব্র প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে নার্সিংহোমে আনা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত সিজার করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রসূতির বয়স আঠারোর কম জানতে পেরেই নড়েচড়ে বসে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসায় কোনও দেরি না করে একদিকে সিজারের প্রস্তুতি শুরু হয়, অন্যদিকে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে। পরে সফল অস্ত্রোপচারে সন্তানের জন্ম দেন ওই নাবালিকা। নার্সিংহোম সূত্রে খবর, বর্তমানে মা ও সদ্যোজাত দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন।
তবে এখানেই শেষ নয়। নাবালিকা কীভাবে বিবাহিত হলেন, কী পরিস্থিতিতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলেন। এই সমস্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া। ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নার্সিংহোমের মালিক মনোরঞ্জন পাঁজার দাবি, আঠারো বছরের নিচে কোনও অন্তঃসত্ত্বা চিকিৎসার জন্য এলে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর নির্দেশিকা রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই সিজারের আগেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে নাবালিকা বিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কম বয়সে গর্ভধারণ মা ও শিশু দু’জনের জন্যই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা, পাশাপাশি প্রশাসনকে খবর ডেবরার এই ঘটনা ফের সামনে আনল নাবালিকা বিবাহের বিপদ ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আইনি দায়িত্বের প্রশ্ন।











