নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: ভোরে গ্রেফতার, ডেবরা থানায় কয়েক ঘণ্টা তারপর সোজা মেদিনীপুর জেলা আদালতের পথে পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতি। শুক্রবার ডেবরা থানা থেকে তাঁকে আদালতের উদ্দেশে নিয়ে যান পিংলা থানার পুলিশ আধিকারিকরা। আর পুলিশি ঘেরাটোপে আদালতে যাওয়ার সময়ই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলে কার্যত বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন বিধায়ক।
দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজিত মাইতির বিরুদ্ধে। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বিজেপি নেতা গোবিন্দ দাসের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, ২০১৬ সালে ব্লক সভাপতি করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার ভোরে মাদপুরের বাড়ি থেকে অজিতকে গ্রেফতার করে পিংলা থানার পুলিশ।
তবে আদালতের পথে সমস্ত অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দেন অজিত। তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। গোটা অভিযোগকেই “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “মিথ্যা” বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন বিধায়ক। অজিতের বক্তব্য, অভিযোগকারী বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন কি না, তা তাঁর জানা নেই বলেও দাবি করেন অজিত। যদিও অভিযোগকারী গোবিন্দ দাসের দাবি, সেই সময় তিনি জামনা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। ফলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দুই পক্ষের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে সরাসরি সংঘাত।
একই সঙ্গে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা থাকার কথাও জানিয়েছেন অজিত। কিন্তু তার পরেই তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। অজিত বলেন, “আমি হয়তো জেলে মারা যেতে পারি, আমাকে হয়তো মেরে ফেলা হতে পারে। কিন্তু তবুও এই আন্দোলন থামতে পারে না।”
গ্রেফতারির পর আদালতে যাওয়ার মুখে প্রাক্তন বিধায়কের এমন মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই নতুন মাত্রা পেয়েছে গোটা ঘটনা। একদিকে ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানোর পাল্টা দাবি এখন সত্যিই কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া।
এখন নজর মেদিনীপুর জেলা আদালতের দিকে। অজিত মাইতিকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হবে, নাকি বিচারবিভাগীয় হেফাজত অথবা অন্য কোনও নির্দেশ দেবে আদালত। সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে চলেছে এই মামলায়।











